চট্টগ্রামে জুলাই হত্যাকাণ্ড: সাবেক তিন মন্ত্রীসহ ২৩১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১৪:০২

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে শহীদুল ইসলাম নামের এক দোকান কর্মচারীকে গুলি করে হত্যা মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ২৩২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে শহীদুল নিহত হয়েছেন। তার বুক, পেট ও পিঠে ১০টি গুলি লাগে।

বুধবার (৩০ জুলাই) চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল হক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে বিষয়টি শনিবার জানাজানি হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় এটি চট্টগ্রামে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে দাখিল করা প্রথম চার্জশিট।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব আহমেদ জানান, এ মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারের আবেদন করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

চার্জশিটে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও  উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এম আব্দুল লতিফ, আবদুস ছালাম, সাবেক এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, এস এম আর মামুন, নোমান আল মাহমুদ, নুরুল আজিম রনি প্রমুখ।

চার্জশিটে মোট ১২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৮ জন সাধারণ মানুষ, ৯৯ জন পুলিশ ও ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তদন্ত শেষে এসআই মো. ফয়সাল চার্জশিট দাখিল করেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পিস্তল, শটগানসহ ভারী অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন অটোরিকশাচালক শহীদুল ইসলাম শহীদ। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট শহীদুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তার ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন।

ইত্তেফাক/এপি