বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অংশ সেই ব্যাট। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে দেশের অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। হয়ে গিয়েছিলেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। তবে তার সেই স্মরণীয় ইনিংসের ব্যাটটির স্থান এখন ইংল্যান্ডের লর্ডসে, এমসিসি (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) জাদুঘরে। বাংলাদেশের ক্রিকেট জাদুঘরে নয়, সেটিই বুকে চাপা আক্ষেপ হয়ে আছে বুলবুলের কাছে।
ঘটনার শুরু সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ শেষের দিন। তখনকার বিসিবি পরিচালকরা একটি ক্রিকেট জাদুঘরের জন্য বুলবুল এবং হাবিবুল বাশার সুমনের ব্যাট দুটি নিয়েছিলেন। বুলবুল সে সময়ে নিজের ব্যাটটি দিয়েছিলেন বিসিবিকে। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পায়নি।
সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি বুলবুল স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, '২৫ বছর আগে ভারতের বিপক্ষে আমাদের প্রথম টেস্টে আমি সেঞ্চুরি করি, সুমন হাফসেঞ্চুরি করেছিল (৭১ রান)। খেলা শেষে সন্ধ্যায় ববি ভাই আমাদের ব্যাট চেয়েছিলেন, আমরা দিয়েও দেই। তিনি জানিয়েছিলেন একটি ক্রিকেট জাদুঘর করতে চান। হয়তো সত্যিই চেষ্টা হয়েছিল।'

কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, সেটি আরও বেশি হতাশাজনক। বুলবুল জানান, 'চার বছর পরে সেই ব্যাট খুঁজে পাওয়া গেল একটা ক্লাবের গোডাউনে (গুদাম ঘর)। পরে আমি সেটি উদ্ধার করি। এরপর এমসিসি জাদুঘর থেকে যোগাযোগ করে। তখন তাদের কাছে ব্যাটটা দিয়ে দেই। এখন সেটা লর্ডসে গেলে দেখা যাবে।'
বাংলাদেশে ক্রিকেট জাদুঘর গড়ার পরিকল্পনা অবশ্য এখনো বিসিবির ভাবনায় রয়েছে। বিসিবি সভাপতি হিসেবে বুলবুল নিজেও সে উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে। তিনি বলেন, 'আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে পূর্বাচলের স্টেডিয়ামে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর করার। যদি সেটি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আমাদের ক্রিকেট ইতিহাস সংরক্ষণের একটি মহৎ উদ্যোগ হবে।'

শুধু জাদুঘরই নয়, বিসিবিকে আরও পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের সংস্থায় পরিণত করতেও নিরন্তর কাজ করে যেতে চান বুলবুল। তার ভাষায়, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সংগঠনে রূপান্তর করতে চাই। কাজটি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ২৫ বছরে ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণ হয়নি, এবার তা করতেই হবে। জানি না তিন মাসে হবে কি না, তবে একটি রূপরেখা রেখে যেতে চাই, যাতে পরে অনুসরণ করা যায়।'
এ লক্ষ্যে বিসিবির তত্ত্বাবধানে রাজশাহীতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে একটি পাইলট প্রোগ্রাম। যেখানে পাঁচ বিভাগে ট্যালেন্ট হান্টের কাজ করছেন দেশের অভিজ্ঞ সাবেক ক্রিকেটার ও কোচরা। লেফট আর্ম স্পিনার খুঁজছেন মোহাম্মদ রফিক, লেগ স্পিনার খোঁজার দায়িত্বে আছেন পাকিস্তানের কোচ মোহাম্মদ শাহেদ মাহমুদ, ব্যাটার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন জাভেদ ওমর বেলিম, পেস বোলিংয়ে হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং অফ স্পিনার বাছাই করছেন রাজন।
বুলবুল বলেছেন, 'ওখানে ৫০ ওভারের ম্যাচ হচ্ছে। পারফরম্যান্স দেখে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।' তিনি আরও জানান, 'সোহেল ইসলাম, দিপু চৌধুরী, তুষার ইমরানদের মতো সিনিয়র কোচরা জেলার কোচদের উন্নত করার কাজ করছেন। কোচরা পরে উপজেলা পর্যায় থেকে যোগ্য খেলোয়াড় বাছাই করবেন। রাজশাহী, বগুড়া, পাবনায় এই কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। সফল হলে দেশ জুড়ে এটি সম্প্রসারিত করা হবে।'
জেলা দলে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে কোচদের নিজস্ব একাডেমির খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেওয়া হয়- এমন অভিযোগ পুরোনো। বুলবুল অকপটে স্বীকার করেছেন, 'একেবারেই সত্য কথা। এজন্যই আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করতে চাই।' এই সমস্যার সমাধানে বিসিবি চালু করেছে ইয়ুথ প্রোগ্রাম। আগে যেখানে ওপেন ট্রায়ালের নামে অব্যবস্থাপনা চলত, সেখানে এখন জেলা কোচদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
