রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা, ১৭ এনআইডিসহ দালাল গ্রেপ্তার 

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৩

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের আশ্রয়-শিবির থেকে দুই রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীকে ফেনীতে আনা হয়। পরে তাদের ভারতে পাচারের লক্ষ্যে একদিন পরশুরাম সীমান্তে রাখা হলেও পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় আবার ফেনী শহরে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে জনতার সহায়তায় দুই রোহিঙ্গা ও একজন স্থানীয় পাচারকারীকে আটক করা হয়। 

রোববার (৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে ফেনীর মহিপাল পাসপোর্ট অফিস–সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।  

গ্রেপ্তার দালালের নাম মোঃ আবদুল মান্নান (৩৪)। তিনি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার কালিনগর এলাকার নতুন বাড়ির শফিকুর রহমানের ছেলে। আটক রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণী হলেন কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আরাফাত (২৫) ও মোসাম্মৎ রমিদা (২৬)। তাদের আশ্রয়-শিবিরে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় দালাল আবদুল মান্নানের কাছ থেকে ৩টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৭টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একাধিক জন্ম-নিবন্ধন সনদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়-শিবির থেকে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে ফেনীতে নিয়ে আসেন স্থানীয় দালাল আবদুল মান্নান ও তার সহযোগীরা। এরপর তাদের ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী পরশুরাম এলাকায় রাখা হয়, কিন্তু পাচার সফল না হওয়ায় আবার ফেনীতে ফিরিয়ে আনা হয়। 

ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দালাল আবদুল মান্নানকে সোমবার বিকেলে কারাগারে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, আটক দুই রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ফেরত পাঠানো হবে।

ইত্তেফাক/এএম/এনজি