নিরপেক্ষভাবে দু’পক্ষের বক্তব্য নিয়ে ফ্যাক্ট ভিত্তিক অনুসন্ধান করুন: উপদেষ্টা আসিফ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ২১:৫২

কুমিল্লার মুরাদনগরে মা, ছেলে ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা বিল্লাল মাস্টারকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার এই দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার নেপথ্যে প্রভাবশালীদের ছায়া রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দেশদাতা ছিলেন বিল্লাল মাস্টার।”

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজ রাত ৭টা ৩৯ মিনিটে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, “ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর স্ক্রিপ্ট পড়ে বাবার গ্রেপ্তার চাওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভিকটিম পরিবারের একজন আগে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যেহেতু আসামিরা ধরা পড়ছে না, তাই উপদেষ্টার বাবা জড়িত থাকলেও থাকতে পারে।’ অথচ এখন বাবাকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যদিও ৯ জন আসামি এরইমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে।”

পোস্টে সংযুক্ত দুটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা দাবি করেন, একটিতে ভিকটিম পরিবারের সদস্য স্থানীয় বিএনপির এক নেতার (শাহ আলম) বাড়িতে হত্যার পরিকল্পনার কথা বলেছেন, অথচ সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। অন্য ভিডিওতে মার্ডারে স্ত্রী ও দুই সন্তান হারানো বাবা বলছেন, “ঘটনার পর থেকেই উপদেষ্টা ও তার বাবার নাম মামলায় দিতে এবং মিডিয়ায় বক্তব্যে বলতে চাপ ও প্ররোচনা দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।”

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের যেকোনো টেলিভিশন বা সংবাদমাধ্যমকে আহ্বান জানাচ্ছি— দয়া করে নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনায় দুপক্ষের বক্তব্য নিয়ে অনুসন্ধান করুন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলুন, ঘটনা বিশ্লেষণ করুন, আমাদের কাছে থাকা প্রমাণ দেখুন। একপক্ষীয় প্রচারে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক রং চড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রুমা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পরিবারের কেউ ভবিষ্যতে উপদেষ্টার চাপ বা হুমকিতে অন্য ধরনের বক্তব্য দিলে, তা যেন প্রকৃত সত্য বলে বিবেচনা না করা হয়।”

অন্যদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, “পরিবারের একটি অংশ রাজনৈতিক প্ররোচনায় পড়ে আমাদের ফাঁসাতে চাইছে, যদিও অন্যরা শুরুতে এই অভিযোগে সায় দেননি।”

সংবাদ সম্মেলনে রুমা আক্তার দাবি করেন, একটি বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাঁদাবাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, বিল্ডিং নির্মাণের কাজ নিজের তত্ত্বাবধানে করায় এবং চাঁদা না দেওয়ায়, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে শিমুল চেয়ারম্যান, আনু মেম্বার, মতিনসহ কয়েকজনের পাশাপাশি উপদেষ্টার বাবারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়, যেখানে আমার মা একজন নির্যাতিত ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। এরপরই আমাদের পুরো পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।”

রুমা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা বিচার চাইতে পারছি না, উল্টো পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ আমাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।”

ইত্তেফাক/এএম