ভাইভায় বেশি নাম্বার রাখার সিদ্ধান্তে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৭

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ভালো প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা বৈষম্য সৃষ্টির জন্য নয়, বরং দক্ষ-যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই সরকার সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে পরিবর্তন এনেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ‘পারসেপশন’ রয়েছে।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর কারণে দুর্নীতি বা বিশেষ কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কি না—এমন আশঙ্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন সরকার দুর্নীতি করার জন্য এটা করছে কি না, কিংবা সরকার তাদের নির্বাচিত মানুষদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এটা করছে কি না। সাংবাদিকের কাজ চাঁচাছোলা প্রশ্ন করা। আমি সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—সাংবাদিকের এমন যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বিষয়নির্ভর হওয়ায় সেখানে কারসাজি বা পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ বেশি থাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না।

তবে তার মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বইভিত্তিক জ্ঞান বিবেচনা করলে চলবে না। চাকরির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দক্ষতা ও অ্যাপটিটিউডও যাচাই করা দরকার।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি একাধিক বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী কতটা ভালো করেছেন, তা না জেনেও কখনো কখনো এমন প্রার্থীকে ভাইভায় পেয়েছেন, যার লিখিত ফল খুব ভালো না হলেও তার কাছে মনে হয়েছে ওই ব্যক্তির নিয়োগ পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, প্রশাসনে এমন মানুষ প্রয়োজন, যাদের শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার সক্ষমতাই নয়, চাকরিতে ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় আরও কিছু গুণ ও অ্যাপটিটিউড রয়েছে। তার বিবেচনায় ভাইভার মাধ্যমে এসব বিষয় তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব।

তবে মৌখিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের সুযোগ থাকলে সেটি নিয়োগব্যবস্থার পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে মোকাবিলা করার কথাও বলেন তিনি। জাহেদ উর রহমানের দাবি, সরকার মনে করেছে নতুন মার্কিং পদ্ধতির মাধ্যমে আরও কার্যকর নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আইনগত ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোনো নিয়োগের পর নির্দিষ্ট অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীরা পৃথকভাবে কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের বিধান করা যায় কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন জাহেদ উর রহমান।

ইত্তেফাক/এসজেএস