অতিমহত্ গুণ হলো কোনো মানুষের প্রতি অন্তরে ঘৃণা-বিদ্বেষ না রাখা এবং কারো ভালো কিছু দেখলে হিংসা না করা। এর ফজিলত প্রত্যাশাতীত। এই গুণে গুণান্বিত একজন সাহাবির ফজিলত সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদিসের ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাদিসটি হলো :হজরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা রাসুলুল্লাহ (স)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় রাসুলুল্লাহ (স) বললেন, ‘এখন তোমাদের নিকট এমন এক ব্যক্তির আগমন হচ্ছে, যে জান্নাতবাসীদের একজন।’ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আনসারের এক ব্যক্তি এলেন, যার দাড়ি দিয়ে অজুর পানি টপকাচ্ছে। তিনি তার জুতাদ্বয় বাম হাতে লটকিয়েছেন। অতঃপর পরদিনও রাসুলুল্লাহ (স) বললেন, ‘তোমাদের নিকট এখন এমন এক ব্যক্তির আগমন হচ্ছে, যে জান্নাতবাসীদের একজন।’ তখন সেই ব্যক্তিরই আগমন হলো তার প্রথম অবস্থার অনুরূপে। এরপর যখন তারপরের দিন হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (স) অনুরূপভাবেই বললেন, ‘এখন তোমাদের নিকট এমন ব্যক্তির আগমন হচ্ছে, যে জান্নাতবাসীদের একজন।’ সে সময় ওই ব্যক্তিরই আগমন হলো তার প্রথম অবস্থার অনুরূপে।
অতঃপর ঐ দিন যখন বৈঠক শেষ করে রাসুলুল্লাহ (স) উঠলেন, তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) ঐ ব্যক্তির পেছনে পেছনে গেলেন, অতঃপর তাঁকে বললেন, আমি কি আপনার নিকট থাকতে পারি? সেই ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ আপনি আমার এখানে থাকতে পারেন। আনাস (রা) বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বর্ণনা করতেছিলেন যে তিনি সেই লোকটির বাড়িতে তিন রাত কাটালেন। কিন্তু তিনি তাকে রাতে তেমন অতিরিক্তভাবে নামাজ পড়তে দেখলেন না। তবে এতটুকু লক্ষ করলেন যে সেই লোক রাতে বিছনায় শুয়ে আল্লাহর জিকির করেন এবং তাকবির পড়তে থাকেন এ যাবত্ যে তিনি ফজরের নামাজের জন্য ওঠেন। অতঃপর পরিপূর্ণভাবে অজু করেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর বলেন, আমি এছাড়া তার তেমন কোনো অতিরিক্ত আমল দেখেনি, আমি তার মুখে কখনো উত্তম কথা ছাড়া কিছু শুনিনি, যখন তিন দিন অতিবাহিত হয়ে গেল এবং আমি তার আমলকে স্বাভাবিকই দেখলাম, তখন আমি তাকে বললাম, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমি রাসুলুল্লাহ (স)কে আপনার সম্পর্কে তিন দিনে তিনবার তিনটি মজলিসে বলতে শুনেছি যে এখন আমাদের নিকট আগমন করছেন এমন ব্যক্তি, যে জান্নাতবাসীদের একজন। সে সময় সেই তিনবারই আপনি আগমন করেছিলেন। সে জন্য আমি আপনার নিকট থাকার এবং আপনার আমল দেখার মনস্থ করলাম, যাতে আমিও সেইরূপ আমল করতে পারি। কিন্তু আমি তো আপনাকে তেমন বড়ো আমল করতে দেখলাম না। অতএব আমি জানতে চাই, কী সেই আপনার নিকট থাকা আমল, যা রাসুলুল্লাহ (স) সেই ফজিলতের কথা বললেন?’ লোকটি বললেন, ‘সেটা তা-ই, যা আপনি দেখেছেন।’ তখন আমি তার নিকট থেকে ফিরতে লাগলাম। যখন আমি পেছনে ফিরলাম, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, ‘সেটা তো তা-ই, যা আপনি দেখেছেন, তবে আমি আমার অন্তরে কোনো মুসলমানের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ রাখি না এবং কোনো মুসলমানের ভালো কিছু যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন, তাতে হিংসা করি না।’
তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বললেন, এটাই সেই মহত্ গুণ, যা আপনার মধ্যে আছে এবং যা আমরা দেখতে পারছি না। এই বিরল ফজিলত লাভকারী সাহাবির নাম হলো সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা) (নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ)।
লেখক : আওলাদ হাদীয়ে বাঙ্গাল হজরত মাওলানা
কারামত আলী জৌনপুরী (রহ)
