তাইওয়ান প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের ক্ষোভ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৯

গতকাল বৃহস্পতিবার তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ অতিক্রম করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। এর আগের দিন চীন সতর্ক করেছিল তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে আগালে চীন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছে। অর্থনৈতিক যুদ্ধে লিপ্ত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মাঝে স্পর্শকাতর দিকগুলোর অন্যতম তাইওয়ান ইস্যু। আবার দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় স্বাধীন নৌচলাচল অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সাগরটির অধিকাংশ এলাকার মালিকানা দাবি করছে চীন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু এখন তাইওয়ান। তাইওয়ানকে আলাদা করতে সাম্প্রতিক মার্কিন কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে এক চীন নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বলেছি।

সম্প্রতি পেন্টাগন তাইওয়ানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে ১০৮টি জেনারেল ডায়নামিকস আবরামস ট্যাংকস এবং ২৫০টি স্টিংগার মিসাইল বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলোর প্রস্তুতকারক যুক্তরাষ্ট্রের রেথিয়ন। চীন বলেছে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করবে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২২০ কোটি ডলারের ট্যাংক ও মিসাইল কিনছে তাইওয়ান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেন, এই অস্ত্র বিক্রি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি চীনের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করেছে। অস্ত্র বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সহযোগিতা করবে না চীন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে যে সব মার্কিন কোম্পানি প্রভাবিত হবে তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় পিপলস ডেইলি। চীনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হানিওয়েল এবং গালফস্ট্রিম কোম্পানি।

সমপ্রতি বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই প্রথম অস্ত্র বিক্রির কারণে মার্কিন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল চীন। কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশটির সবচেয়ে বড়ো পৃষ্ঠপোষক ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। তবে ফ্রান্সও যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ বিক্রি করেছে তাইওয়ানের কাছে। এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইন-ওয়েন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিকে আয়ত্তে নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা কখনো উড়িয়ে দেয়নি চীন।