ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘুষ ছাড়া এই অফিসটিতে ফাইল নড়ে না। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে একাধিক আবেদনও করেছেন ভুক্তভোগীরা। ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে খাজনা খারিজের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি ডিসিআর, খাজনা পরিশোধ, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নামে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষের নামে খরচ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলম ও ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেনসহ আরো অনেকে নায়েবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অফিসের ভূমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। ভূমি মালিকদের সাথে অসত্ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে। নামজারি ও খাজনা আদায়ের নাম করে পর্চা তল্লাশি ও কাগজপত্র বুঝতে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াকুব আলী ও সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
কলিয়া মৌজার আব্দুল মান্নান, নকুমদ্দিন শ্রীবাড়ির রুহুল জানান, ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না। ত্রুটিযুক্ত যেকোনো নামজারি ফাইলে ঘুষের টাকার পরিমাণ বাড়ালেই নামজারি করা যায় সহজে।
বড়টিয়া ৬নং ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল বাতেন জানান, আমার কিছু জমির নামজারির জন্য অফিসে গেলে মোটা অংকের টাকা চায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। আমি জনপ্রতিনিধি হয়েও পরে বাধ্য হয়ে কয়েক মাস ঘোরার পর ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে একটি জমির ডিসিআর কাটতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক বছর ধরে দেই দিচ্ছি বলে কাজটি করে দিচ্ছেন না। জমিটি কলিয়া মৌজার ২১ শতাংশ জমির মালিক মান্নান, সামছু, নান্নু,পান্নু, ফারুক।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ হোসেন বাবর জানান, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অভিহিত করার পরও কোনো ফল হয়নি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলম জানান, বড়টিয়ার ঈমান আলীর নামে সরকারি খাল ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে মালিকানা করে দিয়ে তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইয়াকুব হোসেন বলেন, জনগণকে নাজেহাল করা এবং অনৈতিক টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা সামিরা জানান, কোনো অনিয়মকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
