স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও রাস্তা পাকা হয়নি, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৩৭

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের খোর্দ্দগজাইল থেকে খানপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি হয়ে পড়ে কাদাময় ও চলাচলের অযোগ্য। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও রাস্তার পাকা করণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও বৃদ্ধরা।

বেহাল এই সড়কটি উল্লাপাড়া, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া থানার সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রতিদিন বাগমাড়া, বেদকান্দি, খানপুর, মাদারবাড়িয়া, দাসমরিচ, কালিয়াঞ্জিরি, সুবদ্ধিমরিচ, কোমলমরিচ, পান্তাপাড়া দক্ষিণপাড়া, রঘুনাথপুর ও চন্ডিপুর গ্রামের হাজারো মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন।

পাশেই ধলার বিল এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কিন্তু কাঁচা রাস্তার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত ধান, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে পারেন না। এতে ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

খোর্দ্দগজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগী, বিশেষ করে সিজারিয়ান বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ মিয়া ও বাবলু সরকার বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তায় হাঁটাও যায় না। আমরা বহুবার বলেছি, কেউ শোনে না। এবার যেন পাকা রাস্তা হয়।

ভ্যানচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ রোগী নিতে বললেও আমরা যেতে পারি না। গাড়ি আটকে যায় কাদায়। ফসলও সময়মতো বাজারে নিতে পারি না।

কলেজছাত্রী সাদিয়া খাতুন বলেন, রাস্তার কারণে কলেজে যাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। একটু বৃষ্টি হলেই বিপদ।

একই কথা বলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রহমতুল বারী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা অবহেলায় পড়ে আছে। বহু জনপ্রতিনিধি এসে শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ জানান, সিরাজগঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলেই খোর্দ্দগজাইল থেকে খানপুর পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি