রাজশাহীর দুর্গাপুরে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ২১:৪১

রাজশাহীর দুর্গাপুরে হত্যা মামলার আসামি ওয়াজেদ আলীকে (৭০) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। রোববার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের হোজা অনন্তকান্দি গ্রামে এই নৃংশস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী লাইলী বেগম (৬০) ও ছেলে মাসুম আলী (২৮) আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ মে হোজা অনন্তকান্দি গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে স্থানীয় হাসিবুর নিহত হন। এ ঘটনায় ১৫ মে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ঐ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন রোববার হামলায় নিহত ওয়াজেদ আলী।

সম্প্রতি ওয়াজেদ আলী জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেন। রোববার সকালে তিনি ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বিলের পশ্চিম পাশে নিজের পানের বরজে কাজ করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের একরামুল, ফয়সাল, এমদাদুল, হান্নান ও মান্নানসহ ১০-১৫ জন লাঠি, লোহার রড, হাঁসুয়া ও রামদা নিয়ে পিতা-পুত্রের উপর হামলা চালান। তাদের হামলায় ওয়াজেদ আলীর মাথা, বাম হাতের কবজি ও পায়ে গুরুতর জখম হন। এ ছাড়া তার ছেলে ও স্ত্রী গুরুতর আহত হন। তাদেরকে দুর্গাপুর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াজেদ আলীর মৃত্যু হয়।

ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ও সন্তান আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। প্রতিপক্ষের ভয়ে আমরা নিজ বাড়িতে উঠতে পারি না। বিভিন্ন সময় তারা হুমকি-ধমকি দেয়। এজন্য আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। রবিবার সকালে পান বরজে গেলে আমার স্বামী-সন্তানকে হত্যা করতে তারা হামলা চালায়।’

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আগের একটি হত্যা মামলায় একটি পক্ষের তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধ ওয়াজেদ আলীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএস