নারায়নগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে সাধারণ ভোটারদের। বেশির ভাগ ভোটার একা ভোট দিতে পারেননি। বুঝতে সময় লাগায় ভোটপ্রদান করতে প্রত্যেক ভোটার কমপক্ষে তিন মিনিট সময় নিয়েছেন। ভোটারদের ভোটদানে অদক্ষতার সুযোগে প্রতি ভোটারের সঙ্গে গোপন কক্ষে ঢুকেছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা। এতে করে ভোটদানের গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো ভোটার। সরেজমিনে কাঞ্চন পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এচিত্র পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি ভোটকেন্দ্রের ১১৮টি বুথের প্রত্যেকটিতে ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে ইভিএম ভোটদানের মহড়া সম্পন্ন করেছিল ইসি; কিন্তু ভোটের দিন দেখা গোল ভিন্ন চিত্র। বেশিরভাগ ভোটার ইভিএম ভোট প্রদানে অক্ষম। ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশের পর ভোটার শনাক্তকরণ শেষে ফিঙ্গার নিচ্ছেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার। এরপরই ঘটছে বিপত্তি। ভোটারের গোপনকক্ষ প্রবেশের পর কোন বাটনে চাপ দিবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন তারা। পরে দেখা যাচ্ছে গোপনকক্ষে প্রবেশ করে নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং পোলিং এজেন্টরা ভোটারদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তারপরও ভোট দিতে পারেননি কেউ কেউ। তখন ভোটারের সম্মতি নিয়ে ইভিএমের বাটন চাপ দিয়ে ভোট সম্পন্ন করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং পোলিং এজেন্টরা।
সলিমউদ্দিন চৌধুরী কলেজ কেন্দ্রের ৫৮ বছর বয়সি জাহানারা বেগম ভোটদান শেষে জানান, তিনি কিছুই বোঝেননি। তাই অন্যরা তারপক্ষে ভোট দিয়েছেন। রানীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেশিরভাগ ভোটার একা ভোট দিতে পারেনি। ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে ভোটারের সঙ্গে ঢুকছেন পোলিং এজেন্টও। গোপন কক্ষে ভোটারদের ভোটদানে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভোটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, এক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং পোলিং এজেন্টদের সহায়তায় ভোট দিতে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম (নৌকা), কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা (নারিকেল গাছ), রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (জগ) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম ইমন (মোবাইল ফোন) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
