ইনজুরির সঙ্গে লড়াই যেন আলিস আল ইসলামের ক্যারিয়ারের স্থায়ী সঙ্গী। জাতীয় দলে ডাক পেয়েও চোটের কারণে বাদ পড়তে হয়েছে, আর গেল বিপিএলে সেই আঘাতের ধকল কাটিয়ে এখনো পুরোপুরি মাঠে ফিরতে পারেননি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটিতে বল হাতে তার রহস্যময় স্পিনে প্রতিপক্ষ বারবার বিভ্রান্ত হয়েছে, ব্যাট হাতেও অবদান রেখেছেন। চিটাগং কিংসকে ফাইনালে তোলার নায়ক হয়েও শেষ ম্যাচে ছিলেন না তিনি-দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শেষ ওভারে রান নিতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান, যা সরাসরি নিয়ে যায় অপারেশন থিয়েটারে।
আগামী ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের নতুন আসরকে লক্ষ্য করেই পুনরাগমনের চেষ্টায় আলিস। অপারেশনের পর তার হিসাব ছিল, মাঠে ফিরতে অন্তত পাঁচ মাস লাগবে। সেই অনুযায়ী অক্টোবরের মধ্যে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের অধীনে নিয়মিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে শারীরিক ফিটনেস ফেরানোর পাশাপাশি মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করাতেও সমান মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে আলিস বলেছেন, 'প্রতিনিয়ত ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যখন ভেঙে পড়ি তখন নতুন করে নিজেকে গড়ি। আশা করছি সামনের বিপিএল দিয়ে মাঠে ফিরতে পারবো। বিসিবি থেকে সার্বক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভালো খবর দিতে পারবো।'
কষ্টকর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, 'নিজেকে প্রস্তুত করতে গিয়ে যখন আঘাত পাই তখন আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। কিছুদিন বিশ্রাম দিয়ে আবার নতুন করে নামতে হয়। আবার ফিরে আসে আঘাত, কিছুদিন থেমে আবারও শুরু করি।'
এই কঠিন সময়ের লড়াইয়ে আলিস একা নন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল তাকে নিয়মিত সাহস জুগিয়েছেন, আশ্বাস দিয়েছেন-সব ঠিক হয়ে যাবে। চিটাগং কিংসের স্বত্বাধিকারী সামির কাদের চৌধুরীও নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। তার দলের হয়েই চোটে পড়েছিলেন আলিস, তাই শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিসিবি থেকে যথাযথ সহায়তা না পেলে তিনিই দায়িত্ব নেবেন। যদিও সেই প্রয়োজন পড়েনি, বিসিবি নিজেই আলিসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব নিয়েছে।
ফাঁকা সময়ে জিম সেশন চালিয়ে যাচ্ছেন আলিস। মাঠে নামার সুযোগ না থাকলেও জাতীয় দলের খেলা টিভিতে দেখে কাটান সময়। মানসিকভাবে নিজেকে মাঠে রাখার এই প্রচেষ্টা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি প্রতিযোগিতায় ফেরা যে সহজ হবে না, তা তিনি ভালো করেই জানেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে রহস্য স্পিনারের ঘাটতি নেই, তবে আলিস আল ইসলামকে ঘিরে প্রত্যাশা বরাবরই আলাদা।
২০১৯ সালে বিপিএলে তার অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন, এমন সূচনা তাকে দ্রুত আলোচনায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইনজুরির ধারাবাহিক ধাক্কা ক্যারিয়ারের অগ্রযাত্রা মন্থর করেছে। এবারও একই চিত্র, তবে পার্থক্য হলো-পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং লক্ষ্য তার কাছে স্পষ্ট। ডিসেম্বরের বিপিএল তার জন্য শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার মঞ্চ।

