পদ্মায় বিলীন ২০০ বছরের পুরনো দিঘিরপাড় বাজারের ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ২১:৪৫

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ২০০ বছরের পুরনো দিঘিরপাড় বাজারে আবারও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত থেকে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হুমকির মুখে রয়েছে বাজারের আরও শতাধিক দোকান ও স্থাপনা।  

জেলার অন্যতম বৃহৎ এই বাজারে প্রতিদিন মাছের বড় আড়ৎ, গরু-ছাগলের হাটসহ সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রক্ষা বাঁধের জন্য ফেলা ব্লক ও জিও ব্যাগ ভেসে যাওয়ায় পুরো এলাকা এখন চরম ঝুঁকিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে টঙ্গীবাড়ির দিঘিরপাড় থেকে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া পর্যন্ত ভাঙন-প্রবণ এলাকায় ৫২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান থাকলেও কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ফল আসছে না। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভাঙনকে ত্বরান্বিত করছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী রফিজুল মোল্লা বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড যে জিও ব্যাগ ফেলছে, তা পর্যাপ্ত নয়। তারা শুধু এসে কয়েকটি ব্যাগ দিয়ে চলে যায়, এরপর আর কোনো খোঁজখবর নেয় না।' 

আরেক বাসিন্দা সুমন বেপারী জানান, 'সরিষাবন, হালদারবাড়ি-সহ আশপাশের গ্রামগুলোও বিলীন হয়ে গিয়েছে। হাইকোর্টে রিট হলেও রাতে কাটার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হয়। প্রশাসন এত রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না।  

দিঘিরপাড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউসার সোহেল মিজি বলেন, 'বাঁধ নির্মাণে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরকে দোষারোপ করছে। এতে কাজের গতি কমে গিয়েছে। এই ব্যাপারে প্রশাসনকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।' 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জানান, ২৬টি প্যাকেজের মধ্যে ১৮টি স্থায়ী কাজের জন্যে। ৯.১ কিলোমিটার ব্লক-ভিত্তিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৬০.৫০ শতাংশ। ৩৩ হাজার জিও ব্যাগের প্রায় সবই ফেলা হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়াও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'দুইটি উপজেলা জড়িত থাকায় ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালু উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য পেলে পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

উল্লেখ্য, ২০০ বছরের প্রাচীন দিঘিরপাড় বাজার এর আগে সাতবার পদ্মায় বিলীন হয়েছে। দুই দশকে আবার জমে ওঠা এ বাজার গত তিন বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে এখন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

ইত্তেফাক/এএম/এনজি