পটুয়াখালীতে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১৬:২৮

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় শিক্ষক দম্পতিকে লাঞ্ছনার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসানের প্রকাশ্যে ক্ষমা ও অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের সামনের সড়কে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনীতিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বাসার একটি পাইপলাইন থেকে পানি পড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক এহসানুল হককে ইউএনও তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এ ঘটনার পর রাতে শিক্ষক এহসানুল হক ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে এনে ইউএনও জোরপূর্বক একটি ‘মীমাংসার ভিডিও’ ধারণ করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করেন, যা আরও বিতর্ক তৈরি করে।

গত বুধবার (১৩ আগস্ট) শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরে ইউএনও ইরতিজা হাসান পুলিশ পাহারায় এলাকা ত্যাগ করেন। তবে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে তার গাড়ি ধাওয়া করলে পুলিশ তা প্রতিহত করে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আবারো সকাল থেকে ইউএনও’র বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, ইউএনও ইরতিজা হাসানকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দশমিনা উপজেলা থেকে অপসারণ করতে হবে।

এদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ইউএনও ইরতিজা হাসানকে ইতোমধ্যে ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার স্যার বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি