২০২৪-২৫ মৌসুমের বিপিএল শেষ হয়েছে অনেক আগে, আর নতুন আসরও দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু গত আসরের বকেয়া পাওনা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও চিটাগাং কিংসের মধ্যে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক সামির কাদের চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ৪৬ কোটি টাকার পাওনা প্রসঙ্গে বিসিবির কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি।
তিন দিন আগে সামির কাদের চৌধুরীর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা বিসিবির নজরে আসে। এরপর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে বোর্ড একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। যদিও সেখানে সরাসরি মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ইঙ্গিত যে চিটাগাং কিংসের দিকেই তা স্পষ্ট।
বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, বিপিএলের দলটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এসকিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড’-এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তাদের হাতে রয়েছে। বোর্ড দাবি করে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কাছে তাদের ৪৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
বিসিবির হিসাব অনুযায়ী, শুধু সাম্প্রতিক মৌসুম নয়, বিপিএলের প্রথম দুই আসর (২০১২ ও ২০১৩) থেকেই এসকিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজের কাছে অর্থ পাওনা রয়েছে। এসব পাওনার জন্য একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়, যার মধ্যে ২০১৩ সালের ৭ মে সালিসি নোটিশ ও চলতি বছরের ২২ জুলাইয়ের আইনি নোটিশও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি সেগুলোতে কোনো সাড়া দেয়নি।
টুর্নামেন্টের নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করায় এক সময় চিটাগাং কিংসকে বিপিএল থেকে বাদ দিয়েছিল বিসিবি। পরে তারা আবার ফিরলেও অভিযোগ ও বিতর্কের ধারা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ মৌসুমে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়—বিশেষ করে মেন্টর শহীদ আফ্রিদির পাওনা না দেওয়া এবং বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের পারিশ্রমিক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের ঘটনায়।
বিসিবি জানায়, অতীতের ঘটনা ভুলে তারা সমঝোতার পথে এগিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে সাড়ে তিন কোটি টাকার সমঝোতা চুক্তি হয়। কিন্তু শর্ত পূরণ না করায় ২২ জুলাইয়ের নোটিশ অনুযায়ী সেই চুক্তি বাতিল করা হয়।
বোর্ডের নতুন হিসাব অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কাছে মূল পাওনা ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৫ মার্কিন ডলার এবং ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট সুদ ২২ লাখ ৩২ হাজার ৯২ ডলার। সব মিলিয়ে পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ১৫৬ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা সমান।

