এনসিএলে অভিজ্ঞ কোচদের মেলা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৩০

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সাতটি বিভাগীয় দল ও একটি মেট্রো দল নিয়ে হবে এবারের আসর। পুরো টুর্নামেন্টে দায়িত্ব সামলাবেন অভিজ্ঞ ও নবীন দেশি কোচরা। ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন ক্রিকেটাররা। বিপিএলের আগে নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই টুর্নামেন্টকে। দেশের সর্বোচ্চ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়র নিলামের যে তালিকা তৈরি করা হবে, সেটি অনেকাংশেই নির্ভর করছে এনসিএল টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্সের ওপরে।

এবার ঢাকা বিভাগীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিজানুর রহমান বাবুল, যিনি বিপিএলে ফরচুন বরিশালের কোচ হয়ে ২০২৪ ও ২০২৫ মৌসুমে দলকে শিরোপা জেতানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। চট্টগ্রামের দায়িত্বে আছেন মাহবুব আলী জাকি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করে আসছেন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তুলতে অবদান রেখেছেন। সিলেটের কোচ রাজিন সালেহ তো পরিচিত মুখ, বয়সভিত্তিক দল গঠন ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করতে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

রাজশাহী দলের দায়িত্বে থাকছেন আব্দুল করিম জুয়েল, যিনি এ অঞ্চলের ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে বহু বছর ধরে যুক্ত। বরিশাল দলের কোচ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়া এই ব্যাটার কোচিং পেশায় অনেক আগেই নাম লিখিয়েছেন। গেল বিপিএলে সফলভাবে কাজও করেছেন। এবার ঘরোয়া টুর্নামেন্টে প্রধান কোচ হিসেবে দেখা যাবে তাকে।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটার তুষার ইমরান। ১১ হাজারের বেশি ফার্স্ট ক্লাস রান করা তুষার অবসরের পর বিভিন্ন ক্লাব ও বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করিয়েছেন। রংপুরের দায়িত্বে আছেন সাইফুল ইসলাম খান, যিনি স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করে আসছেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোর দায়িত্বে থাকবেন নাজমুল হোসেন। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার বর্তমানে কোচিং পেশায় মনোনিবেশ করেছেন। ঢাকা মেট্রোর প্রধান কোচ হিসেবে এবার তাকে দেখা যাবে। যদিও এই আসরের পরে ঢাকা মেট্রো দল আর থাকছে না। ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এনসিএল চার দিনের ম্যাচে নতুন দল হিসেবে থাকবে ময়মনসিংহ বিভাগ।

এবারের এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হবে তিনটি ভেন্যুতে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানিয়েছিলেন, ম্যাচ আয়োজনের সুবিধা বিবেচনা করে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাজশাহী, সিলেট ও বগুড়া। কারণ, এখানে একই জায়গায় দুটি মাঠ আছে, যা ঘন সূচির টুর্নামেন্টের জন্য খুবই জরুরি। আকরাম বলেছিলেন, 'এই ভেন্যু নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ভেন্যু খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন ছিল। আমাদের একই জায়গায় দু'টি মাঠ প্রয়োজন ছিল। অনেক আলোচনার পর রাজশাহী এবং সিলেটের সাথে বগুড়াকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।'

টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিটি বিভাগ থেকে ৩০ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও 'এ' দল, এইচপি দল ও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের জায়গা থেকে ব্যস্ত রয়েছেন। বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার জানিয়েছেন, 'আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি দল প্রস্তুতি শুরু করবে। তার আগে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা কেবল ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলে থাকেন, তারা নিজেদের জায়গা থেকে অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ