নওগাঁর আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে প্রায় ১৭ হাজার বিঘা জমির আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল, এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কও।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদ-নদীতে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। এতে ভোঁপাড়া, পালশা, হেঙ্গলকান্দি, মাঝগ্রাম, কচুয়া, মারিয়া, মনিয়ারীসহ বিভিন্ন গ্রামের শত শত বিঘা জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো পানিবন্দি মানুষরা দুর্ভোগে আছেন।
ভোঁপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, তার নিজের ১৬ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক আব্দুল হালিমের ৯৫ বিঘা জমির ধান ডুবে গিয়ে তার প্রায় ৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। কৃষক রুবেল চৌধুরীরও ২২ বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, বন্যার কারণে অন্তত সাড়ে ১০ হাজার বিঘা জমির ধান ও অন্যান্য ফসল এখন পানির নিচে। প্রতি ঘণ্টায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ফসলের ক্ষতি বাড়ছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে আত্রাই ও রাণীনগরের অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমে আসায় এবং উজানে পানি কমতে থাকায় আশা করা হচ্ছে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই নদীর পানি কমতে শুরু করবে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখনো কোথাও বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
