দুই হাত নেই, মুখে কলম ধরে দাখিলে উত্তীর্ণ রিয়াদ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬

দুই হাত নেই। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রবল আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে মুখে কলম ধরে লিখে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে রিয়াদ হোসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং তার এই সাফল্য অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ছোটবেলা থেকেই দুই হাত না থাকায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে রিয়াদকে। তবে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে কখনো থেমে যায়নি সে। হাতের পরিবর্তে মুখে কলম ধরে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের ফলে এবারের দাখিল পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে রিয়াদ।

রিয়াদের সহপাঠীরা জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল অত্যন্ত বেশি। ভবিষ্যৎ নিয়েও রিয়াদের বড় স্বপ্ন রয়েছে—উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া।

রিয়াদ হোসেনের ইচ্ছা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া। নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায় সে।

বালিচাঁদ দারুল দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রিয়াদ শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়ায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। মুখে কলম ধরে লিখে এবারের দাখিল পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে সে যেন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, আমরা তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।’

নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘রিয়াদ হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মুখে লিখে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে সে একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজে অবদান রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে রিয়াদের এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

ইত্তেফাক/এএইচপি