অণুগল্প

মুখোমুখি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৪

‘আমরা বিয়ে করেছিলাম।’ লোকটি বলল। ‘বছর পাঁচ আগে এক শীতে।’

‘আচ্ছা? শীতকালে বিয়ের ঘটনা খুব ঘটে। কোনো এক শীতে আমিও কাজটা করেছি।’ বললাম আমি।

‘এক গরমে চলে গেল। খুব ভ্যাপসা গরম ছিল সেদিন।’ লোকটি বলল।

‘ডিভোর্স? আজকাল খুব ঘটছে। গরম-শীতে সমানে। নারী-স্বাধীনতার ডেসট্রাকটিভ পার্ট। নারী যত আয়-রোজগেরে হচ্ছে তত ঘর ভাঙছে। আজকাল তো অহরহ ভাঙছে।’ আমি আশ্বস্ত করার ঢঙে যোগ করি।

‘না। ডিভোর্স না।’ লোকটি মৃদু প্রতিবাদের স্বরে উত্তর দেয়।

‘এক্সট্রা ম্যারিট্যাল অ্যাফেয়ার? খুব হচ্ছে আজকাল। বন্ধুর সাথে, বসের সাথে; এমনকি ড্রাইভারের সাথেও বাড়ির বৌ-মেয়েরা শুচ্ছে—ভেগে যাচ্ছে। খুউব যাচ্ছে।’ আমি তখন বাড়তি উত্সাহ নিয়ে বলি।

‘তাও না।’ লোকটি বলল। ‘ডেথ।’ বলে বিরক্তি নিয়ে সামনের দিকে তাকাল। যেন মৃত্যু খুব অরুচিকর একটা বিষয়।

‘অ্যাক্সিডেন্টাল? পথেঘাটে খুব মরছে এখন। দিনে নাকি গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪ জন নিহত হয়! ভাবতে পারেন?’ আমি তখন সহাস্যে বলি, যেন মৃত্যু নয় কোনো মামুলি আমুদে বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে আমাদের।

‘না। খুন।’ কিছুটা বেখেয়ালি হয়ে উত্তর করে লোকটি।

‘আচ্ছা? ছিনতাইয়ের কবলে? রাজধানীতে খুব ঘটছে—অলিতে গলিতে, এমনকি রাজপথেও। দিনে-দুপুরেও। খুনের ঘটনাও বেড়েছে খুব। গালে থাপ্পড় মারার মতো তুচ্ছ কারণেও আজকাল খুন করে ফেলা হচ্ছে। অহরহ ঘটছে।’ সান্ত্বনা দেয়ার ভঙ্গিতে বলি আমি।

‘আমি নিজে মেরেছি তাকে।’ লোকটি শীতল কণ্ঠে বলে। ‘ড্রাইভারটা এখন প্রমাণিত খুনি। জেলে।’ লোকটি বলা শেষ করে নির্বিকারভাবে রাস্তার উলটো দিকের শপিংমল থেকে নেমে আসা এক অল্পবয়স্ক মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকি। মেয়েটি রাস্তা ক্রস করে লোকটির কাছে আসে। হাতটা ধরে।

‘আমরা বিয়ে করব কোনো এক শীতে।’ ঈষত্ হেসে লোকটি বলে। মেয়েটিকে কিংবা আমাকে।

‘চলো আজ ফের সিনেমাটা দেখি।’ মেয়েটি উত্ফুল্লভাবে আমার হাতটি ধরে বলে। মুহূর্তেই লোকটি উধাও। ড্রাইভারের বউয়ের সাথে সিনেমা দেখা, ফুর্তি করার মতো সম্পর্ক এই শহরে সচরাচর ঘটে না। খুব কম ঘটে। এই একটি ঘটনা এত কম ঘটে কেন ভাবতে ভাবতে আমরা পা বাড়াই কোনো এক সিনেমা হলের গলির দিকে।