গৃহকর্তাকে হত্যা করে ৪ গরু লুট, ব্যাটারি ফ্যাক্টরির ২ গার্ড আটক

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১৯:৫০

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেবপুরে এক গৃহকর্তাকে হত্যা করে চারটি গবাদি পশু লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে রোববার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহকর্তা হাজী মহর উদ্দিন (৭০) তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের মৃত হাজী সফিজউদ্দিনের ছেলে।

ওই বাড়ির পাশেই ‘এভার লাইট’ ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা কাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ১২ জন সিকিউরিটি গার্ড থাকলেও সাহায্য চেয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

নিহতের ভাই হাজী জহিরুদ্দিন বলেন, রাত দুইটার পরে এ ঘটনায় খবর পেয়ে ভাইয়ের বাড়িতে এসে জানতে পারি ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়াল ঘর থেকে চারটি গরু লুট করে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। এ সময় ছোট ভাই মহর গরু নিতে বাধা দিলে তাকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

এদিকে এ ঘটনায় ওই ব্যাটারি ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার সোহেল রানা ও সিকিউরিটি গার্ড আমির হামজাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে ফ্যাক্টরির সিসি ক্যামেরাও জব্দ করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় আওলাদ হোসেন ও তালেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মীর রবিউল ইসলামসহ গ্রামের লোকজন জানান, ঘন্টাব্যাপী এসব ঘটনায় তাকে মারধর করে গরুগুলো যখন লুট করা হয়, তখন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা কাজ করেছিল। সিকিউরিটি গার্ডদের বলা হয়েছিল সাহায্য করতে এবং থানাকে ফোন দিতে। কিন্তু তারা গেট বন্ধ করে ভেতর থেকে তামাশা দেখছিল।

শুধু তাই নয় নিহতের ছেলে নুরুল ইসলামও ওই ফ্যাক্টরিতে সিকিউরিটি হিসেবে চাকুরি করেন। তার ডাকেও তারা সারা না দিয়ে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। এতে করে মনে হচ্ছে এ ঘটনায় ওদের সংশ্লিষ্টতা আছে। এছাড়া এ ফ্যাক্টরির মালিক চায়না এখানে বসত বাড়ি থাকুক।

তবে ঐ ফ্যাক্টরির আমিনুর নামে আরেক সিকিউরিটি বলেন, রাতে গেট খুলতে কর্তৃপক্ষের নিষেধ ছিল বলেই আমরা বন্ধ করে বসে ছিলাম। 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, ১০ থেকে ১২ জন লোক গরুগুলো চুরি করছিল। তখন ঐ বাড়ির মালিক বাধা দিলে তারা তাকে আঘাত করে। আহত অবস্থায় মহর উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আজ বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। এছাড়া ঐ বাড়ি  পাশেই ঐ ব্যাটারি ফ্যাক্টরি। বাড়ির লোকজন অনেক ডাকাডাকির পরও ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে দেখলেও সিকিউরিটিরা কেউ এগিয়ে আসেনি এবং নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেনি। তাই তাদের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরাও নিয়ে এসেছি। তাদের কোম্পানিও বিষয়টি দেখছে। উত্তেজিত জনতা ফ্যাক্টরিতে কয়েকটি ঢিল মেরেছে। তবে আমরা শান্ত থাকতে বলেছি। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে এজাহার পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এমএএস