নেই সংযোগ সড়ক, কাজে আসছে না ৫ কোটি টাকার সেতু

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৮

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ী আঞ্চলিক সড়কে বগাপুতা খালের ওপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে হাজারো যাত্রী ও পরিবহন চালকরা প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে পুরাতন জরাজীর্ণ সেতু ব্যবহার করছেন।

২০২০ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ১১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ কিমি দীর্ঘ ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ী আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়। ‘তাহের ব্রাদার্স’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা নির্মাণের কাজটি পায়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর করোনা মহামারী প্রতিকূলতার মাঝে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু ৯ নম্বর এলএকেস বগাপুতা অংশে প্রায় ২ কিলোমিটার এবং ১০ নম্বর এলএকেস এর ৬টি মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় বাঁধার মুখে ৪ বছর ধরে রাস্তা ও সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বগাপুতা গ্রামের প্রায় ১০টি পরিবারের জমি সংযোগ সড়কের আওতায় পড়েছে। জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তারা জমি ছাড়বেন না। মজিবুর রহমান, আব্দুস ছাত্তারসহ একাধিক জমির মালিক বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে আমরা এখনো টাকা পাইনি। টাকা না পেলে রাস্তা করতে দেব না।’

প্রতিদিন ওই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে কেন্দুয়া ও আঠারবাড়ী রোড়ের ঢাকাগামী দুরপাল্লার বাস ও শত শত ট্রাক চলাচল করছে। পুরনো সেতুতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক সমিতির সভাপতি বাবুল মিয়া বলেন, ‘নতুন সেতু চালু না হওয়ায় বাস-ট্রাকগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।’

ঈশ্বরগঞ্জ রেন্ট-একার ক্লাবের কার্যকরি সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, বগাপুতা সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশের সরু পুরাতন জরাজীর্ণ সেতুর উপর দিয়ে পারাপারের সময় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈশ্বরগঞ্জ হতে বগাপুতা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিমি. রাস্তার এমন বেহালদশা যে, জীবিকার তাগিদ ছাড়া এ রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালাতে আমরা রাজি নই। যাত্রীবাহি পরিবহন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক বোঝাই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ঈশ্বরগঞ্জ ও রায়বাজারে সরবরাহের একমাত্র সড়ক পথ এটি।

ট্রাক চালক আব্দুল গফুর বলেন, ‘পুরনো সেতুর উপর দিয়ে পণ্য বোঝাই ট্রাক পার হওয়ার সময় মনে হয় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটবে।’

ঈশ্বরগঞ্জ সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম জানান, জমির মালিকদের ৭ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কেটে গেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হবে এবং অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস