বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্রলীগ নেতা হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নগর ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সুহান ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। শেবাচিমে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হবে। গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, 'আজ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। নগর ভবনের সামনে অবস্থানকালে পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানসহ আরও দুই-তিনজনকে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে গেছে, আমরা জানি না।'
এর আগে সোমবার (১৮ আগস্ট) শেবাচিমে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি এবং অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে জনতার ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে আঘাত, মারধর ও হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়।
রোববার দুপুর তিনটা থেকে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে প্রত্যাহার করেছে। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে হাসপাতাল শাটডাউনের হুশিয়ারী দিয়েছিল শেবাচিমের চিকিৎসকরা।
তাদের পক্ষে ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, 'পরিচালক স্যারের আশ্বাসে আমরা কাজে ফিরেছি। পুলিশ একজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের অন্যান্য দাবির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।'
২৩ দিন ধরে চলমান স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা। গত ১১ আগস্ট শেবামচিমের জরুরি বিভাগের গেটে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। ১৪ আগস্ট তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অনশন থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার কোতোয়ালী থানায় ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। রোববার হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। একই সময় ছাত্রজনতা প্রধান গেটে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রজনতার ছোড়া ইটে একজন চিকিৎসক আহত হন।
