এ বছর জানুয়ারিতে সোলার প্যানেল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার আপাতত কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে মন্থরগতি পেয়েছে। চলতি মাসে চীনের কারখানা উত্পাদন ও খুচরা বিক্রি উন্নতির আভাস দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, এ অর্জন টেকসই না-ও হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বেইজিং আগামী মাসগুলোয় আরো প্রণোদনা পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি দুটির এ বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমাগত দীর্ঘায়িত ও ব্যয়বহুল হচ্ছে, যা একটি বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতিটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে চীনের বাণিজ্য অংশীদার ও আর্থিক বাজারগুলো।
সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯২ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর সবচেয়ে মন্থর প্রবৃদ্ধি। তবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এএফপির মতামত জরিপে বিশ্লেষকদের দেওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা ব্যয় ও বিনিয়োগ শক্তিশালী করতে এবং ব্যবসা আস্থা পুনরুদ্ধারে বেইজিং আরো পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে অনেক লাভ আবার অনেক দেশ ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে। সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান চারটি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা খরচ কমাতে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকেছেন। সে জন্য পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ বেড়েছে। রপ্তানিও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) যুক্তরাষ্ট্রে ২৫৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের এই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২২১ কোটি ডলারের পোশাক। দেশের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। অনেক নতুন ক্রেতা খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে সুযোগটা ব্যাপকহারে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কারণ, ক্রেতারা খুবই কম দামে পোশাক কিনতে চান। তা ছাড়া, অধিক মূল্য সংযোজনের পোশাক তৈরির সক্ষমতাসম্পন্ন কারখানার সংখ্যা খুবই কম।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্স) সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানির হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৩ হাজার ৩১১ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে। সম্প্রতি প্রকাশিত ডিলয়েট অ্যাকসেস ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জুনের বিজনেস আউটলুক রিপোর্ট পেশকালে ডিলয়েটের অংশীদার ক্রিস রিচার্ডসন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে মজুরি বৃদ্ধিতে শ্লথগতি থাকলেও চীনে অস্ট্রেলীয় কয়লা ও আকরিকের চাহিদা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় মজুরি বেড়েছে। অন্যদিকে নয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো জুনে ভারতের রপ্তানি কমেছে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধকে। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার বিবাদ বৈশ্বিক বাণিজ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যার কারণে বিশ্ব জুড়েই রপ্তানিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
