উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ‘জুলাই’২৪ বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণে কর্মশালা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ১৩:২৩

‘জুলাই ২০২৪’ বিপ্লবের অংশগ্রহণকারীদের স্মরণে এবং ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে একটি বিশেষ কর্মশালা। 

সোমবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাছাই পদ্ধতি প্রণয়ন কর্মশালা’।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা এবং স্মৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রমকে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোতে রূপ দেওয়া। এতে অংশগ্রহণকারীদের বাছাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয় একাধিক ধাপ। যার মধ্যে রয়েছে: অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের নির্ধারিত পদ্ধতি; বিপ্লবীদের তালিকা প্রণয়ন; অবদান যাচাই ও স্বীকৃতি; অভিজ্ঞতা ও প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে পেশাদার সম্পাদনা; একটি প্রামাণ্য স্মারক প্রকাশ।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ.এস.এম. শাহাবুদ্দিন এবং স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ড. শাহ আহমেদ।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবে জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা উত্তরা ইউনিভার্সিটির সত্যিকারের সূর্যসন্তান। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তারা বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে এক শিক্ষার্থী জানতে চান কোনও জুলাই যোদ্ধা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থপরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তিনিও কি স্মারকে অন্তর্ভুক্ত হবেন? উত্তরে অধ্যাপক এ.এস.এম. শাহাবুদ্দিন বলেন, এই দুটি বিষয় একে অপর থেকে স্বতন্ত্র।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক বিভাজন, সহিংসতা ও ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক স্মারক তৈরি করার আহ্বান জানান।

উল্লেখযোগ্য যে, শিক্ষার্থীদের সংগৃহীত অভিজ্ঞতা, দলিল ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে শিগগিরই ‘জুলাই ২০২৪ বিপ্লব’ বিষয়ক একটি স্মৃতি স্মারক প্রকাশ করা হবে। এই স্মারক শুধু উত্তরা ইউনিভার্সিটির ইতিহাস নয়, বরং দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক চেতনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি