শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৬ সালের অক্টোবরে। এই শ্রীলঙ্কা সফরেও শুরুতে তার নাম স্কোয়াডেও ছিল না। শেষ মুহূর্তে হুট করেই পেসার শফিউল ইসলামকে দ্বীপদেশটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর টিম ম্যানেজমেন্টের ভূতুড়ে সিদ্ধান্তে তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে রেখে শফিউল ইসলামের ওপরই ভরসা রাখা হলো।
প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে শফিউল অবশ্য গড়পড়তা বোলিংই করেছেন। নয় ওভার বোলিং করে ওভারপ্রতি প্রায় সাতটি করে রান দিয়েছেন তিনি। তাই তিন উইকেট পাওয়াও ম্যাচের ওপর কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি। তবুও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলার এই শফিউলই।
কলম্বোতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ কার্যত চারজন বোলার নিয়ে মাঠে নামে। এর মধ্যে শফিউলের মতোই খরুচে বোলিং করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাই, কখনোই টসে হেরে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি।
দুটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। যদিও, ১০ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৭৫ রান। এই বছর কমপক্ষে ১৫টি ওয়ানডে ইনিংসে বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজই সবচেয়ে খরুচে। এই বছর ১৫টি ওয়ানডেতে তিনি ৬.৮১ হারে রান দিয়েছেন। একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন ও সৌম্য সরকার।
লঙ্কান ব্যাটিং লাইন আপে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন কুশল পেরেরা। পেয়েছেন দারুণ একটা সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে এটা তার পঞ্চম সেঞ্চুরি, আর বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে পেরেরার প্রথম সেঞ্চুরিটি ছিল ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। ঢাকায় তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১২৪ বলে ১০৬ রান করেছিলেন পেরেরা।
এবার মাত্র ৮২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন পেরেরা । ৯৯ বলে করেন ১১১ রান। ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও একটি ছক্কা। এর বাদে আর কোনো লঙ্কান ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৪৮, কুশল মেন্ডিস ৪৩, অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারত্নে ৩৫ ও লাহিরু থিরিমান্নে ২৫ রান করেন। শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে করে ৩১৪ রান।
