সাদা বলের ক্রিকেটে আরো বেশি মনোযোগী হতে চান। সেজন্য মাত্র ২৭ বছর বয়সেই মোহাম্মদ আমির সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিলেন। ফলে, মাত্র ৩৬টি ম্যাচেই থেমে গেল বাঁহাতি এই পেসারের টেস্ট ক্যারিয়ার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে খেলতে পারাটা আমার জন্য বিশাল একটা সম্মানের ব্যাপার। তবে, আমি বড় পরিসরের ক্রিকেট থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে কেবল সাদা বলের ক্রিকেট খেলবো।’
২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় আমিরের। ৩৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন ১১৯টি উইকেট। আমির এখন মূলত আসছে বছর অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেকে ফিট করে রাখার চেষ্টায় আছেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হয়ে খেলে যাওয়াটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এখন আমি নিজেকে ফিট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমি দলের হয়ে নিজের সবটুকু দিতে চাই। আপাতত আমি চোখ রাখছি ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে।’
কাগজে কলমে আমিরের টেস্ট ক্যারিয়ারটা ১০ বছরের। যদিও, ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছরের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও, নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অনেক সমালোচনার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমিরের ফেরার রাস্তাটা সহজ করে দেয়।
২০১৬ সালে ফেরার পর আমির ২২টি টেস্ট খেলেন। এর মধ্যে পান ৬৮ টি উইকেট। এর মধ্যে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পান ৬৮ রানে ছয় উইকেট। এটাই টেস্টে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
আমির জানালেন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তার জন্য খুব কঠিন ছিল। বললেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তবে, আমি মনে করি, পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ফাস্ট বোলাররা আছেন। ফলে, আমি মনে করি টেস্টকে বিদায় জানানোর জন্য এটাই সঠিক সময়। আশা করি, নির্বাচকরাও আমার এই ভাবনার সাথে একমত পোষণ করবেন।’
পিসিবি আমিরের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিম খান বলেন, ‘ও খুব শক্ত একজন ক্রিকেটারই নয়, দারুণ একজন মানুষও মাঠে। টেস্ট ক্রিকেটে ওর দক্ষতা ওর ব্যক্তিত্ব আমরা ড্রেসিংরুমে মিস করবো। তবে, আমরা ওর সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আশা করি, এখন সাদা বলের ক্রিকেটে ও দলের হয়ে আরো বেশি ভূমিকা রাখবে।’
