চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপীয় নেতাদের আতিথ্য দিয়েছেন। সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটকে দেখা যায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে 'ঐক্য প্রদর্শনের' জন্য এই বৈঠক হয়েছিল। আলোচনার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপীয় নেতাদের ওয়াশিংটনের 'বন্ধু ও মিত্র' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে বৈঠকের ছবিগুলো ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পকে ওভাল অফিসের রেজোলিউট ডেস্কে বসে থাকতে দেখা যায় এবং তার বিপরীতে ইউরোপীয় নেতারা বসে আছেন - এমন ছবিগুলোকে ক্ষমতার 'লজ্জাজনক' প্রদর্শন বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা উল্লেখ করেছেন, এটি ট্রাম্পকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন তিনি 'অশান্ত স্কুলছাত্রদের' একটি দলকে আতিথ্য দিচ্ছেন। আর তিনি সেখানে 'ক্লাস নিচ্ছেন'।
ডেইলি মেইলের মার্কিন ভাষ্যকার এবং ইউটিউবার বেনি জনসন এক্স-এ ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, '২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী ছবি: বিশ্বনেতারা তার (ট্রাম্পের) চারপাশে ভিড় করছেন, কেবল তাকে শুনছেন। এর (এই ছবির) কাছাকাছি আর কিছুই নেই।'
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল শান্তি ও সংঘাত গবেষণার সুইডিশ অধ্যাপক অশোক সোয়েনের উদ্ধৃতি লিখেছে, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ওভাল অফিসের আদালতে বসেছিলেন, তখন ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতারা বাধ্য ছাত্রদের মতো বসে ছিলেন। ইউরোপীয়দের কাছে এটি কি ইউরোপের মতো মনে হয়?'
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে সমকক্ষ হিসেবে আসা ইউরোপীয় নেতারা কীভাবে নিজেদেরকে এত 'ছোট' করে দেখার সুযোগ করে দিলেন।
একটি এক্স-ব্যবহারকারী তার পোস্টে এই দৃশ্যকে 'অপমানজনক' বলে বর্ণনা করেছে। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের 'পাগল সম্রাটের দরবারে উপস্থিত দাস' বলে অভিহিত করেন।
ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের আপাত অবমাননা নজিরবিহীন নয়। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো ২০১৮ সালের একটি ছবির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এবং অন্যান্য বিশ্বনেতারা হাত মেলানো অবস্থায় বসে থাকা ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, এই ছবি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তনশীল গতিশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।
এদিকে, ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা দেখানোর কয়েকদিন আগে ট্রাম্প আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উষ্ণ সম্মান এবং লাল গালিচা বিছিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
উভয় বৈঠকই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলা করার জন্য ছিল।
ইউরোপীয় নেতারা ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন। চলতি বছরের জুনে ন্যাটো প্রধান ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করার সময় ট্রাম্পকে 'ড্যাডি' বলে সম্বোধন করেছিলেন।
এবারের বৈঠক পর্বটি একটি বৃহত্তর বিষয়ের ওপর জোর দেয় যে, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই আধিপত্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনকে অগ্রাধিকার দেয়।
সোমবারের বৈঠকে বিশ্বমঞ্চে ইউরোপীয় নেতাদের কীভাবে 'নগন্য' হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এই বৈঠক কেবল তাদের অপমানিতই করেনি বরং মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্কের তীব্র বাস্তবতাও প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: তেহরান টাইমস
