নাইট ওয়াচম্যান লিচের বিস্ময়

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ২১:০৬

নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে সেঞ্চুরি তো বটেই, ডাবল সেঞ্চুরিরও উদাহরণ আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার জেসন গিলেস্পি। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯২ রানের ইনিংস খেলা জ্যাক লিচের মতো প্রভাব ম্যাচে খুব বেশি নাইট ওয়াচম্যান রাখতে পারেননি। বলা চলে, তার ইনিংসের ওপর ভর করেই লর্ডস টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মান বাঁচানোর পথে ছিল ইংল্যান্ড।

লিচ এমন কোনো খেলোয়াড় নন, যার ব্যাটের ওপর বিন্দুমাত্র ভরসা করা যায়। চার টেস্টের ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৬ রানের। ৮০টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচে দুটি ফিফটি আছে বটে। কিন্তু গত ১৯ ইনিংসে এক অঙ্ক পার হতে পারেননি। এর মধ্যে চারবার শূন্য রানেও আউট হয়েছেন। মজাটা হলো, সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ মিস করেছিলেন আঙুলের ইনজুরিতে। আর সেই ইনজুরিটা হয়েছিল নেটে ব্যাটিং করতে গিয়ে!

সেই রাগ থেকেই কিনা ব্যাটে কিছু করে দেখালেন জ্যাক লিচ।

আয়ারল্যান্ড যখন শেষ বিকেলে অলআউট হয়ে গেল, তখন ইংল্যান্ড দুজন প্রতিষ্ঠিত ওপেনারকে উইকেটে পাঠাতে চায়নি। ররি বার্নসের সঙ্গে তাই ইনিংস শুরু করতে গিয়েছিলেন লিচ।

আঙুলের ইনজুরি থেকে ফেরার পর প্রথম ম্যাচেই সারের বিপক্ষে মরনে মরকেলের বাউন্সারে চোট পেয়েছিলেন ব্যাটিংয়ের সময়। লিচ বলছিলেন, সেই চোট পাওয়াটা আসলেই তার ব্যাটিং ভালো করতে একটা ভূমিকা রেখেছে, ‘ওটা কঠিন একটা সময় ছিল। সম্ভবত ঘটনাটা আমার ব্যাটিংয়ে একটা ভূমিকা রেখেছে। আমি ওই ঘটনার পর কঠোর পরিশ্রম করেছি। আর আস্তে আস্তে নিজেকে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নিয়ে এসেছি। ফলে আমার ব্যাট করতে গিয়ে বাজে কিছু অভিজ্ঞতা তো হয়েছেই। তবে সেটা গত বছরের ঘটনা। আর এখন এই ম্যাচেই আমি ৯২ রানের একটা ইনিংস খেলেছি।’

ভাগ্য আসলে লিচের সঙ্গে অসাধারণ খেলা খেলেছে। পুরো ইনিংস জুড়ে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন। ৩০ শতাংশ শট অল্পের জন্য ক্যাচ হয়নি। এ ছাড়া দুটি জীবন পেয়েছেন ৭২ ও ৯২ রানে। দ্বিতীয় জীবন অবশ্য এক বলের বেশি টেকসই হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই ভাগ্যই তাকে সেঞ্চুরি করতে দেয়নি।

তবে সেঞ্চুরি করতে না পারলেও যে ইনিংস খেলেছেন, তা এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না লিচ। বলছিলেন, ‘আমি সত্যিই এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আসলে মাঠে গিয়েছিলাম এবং চেষ্টা করেছিলাম দলের জন্য কিছু করতে। আমার চেষ্টা ছিল প্রথম কিছু বলের চাপটা সামলে দেওয়া। যাতে পরের ব্যাটসম্যানরা এসে সহজে খেলতে পারে। আমি তখন চেষ্টা করছিলাম যে একটা জুটি করে খেলা যায় কি না। কিন্তু আমি যা আশা করেছিলাম, ব্যাপারটা তার চেয়ে বেশ একটু ভালোই হয়ে গেছে।’