জালিয়াতির দায়ে চীনে ‘লাভ মাদার’খ্যাত নারীর কারাদণ্ড

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ২১:১১

চীনে ১১৮ শিশু দত্তক নেওয়া মানবহিতৈষী ও ‘লাভ মাদার’ খেতাব পাওয়া লি ইয়ানসিয়াকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত হানার দায়ে হেবাই প্রদেশের উয়ানের একটি আদালত তার বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছে। 

৫৪ বছর বয়সি লি ইয়ানসিয়া এক সময়ে একটি এতিমখানার মালিক ছিলেন। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে তার ছেলেবন্ধুসহ ১৫ সহযোগিকেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রায় ঘোষণার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ওইবুতে প্রকাশিত আদালতের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঐ নারী সহযোগিদের সঙ্গে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে অন্য অপরাধের পাশাপাশি জালিয়াতি করেছে। তার ছেলেবন্ধু জু কির বিরুদ্ধে সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে জরিমানার পাশাপাশি ১২ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর ১৪ সহযোগিকে চার বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লি ইয়ানসিয়া প্রথম খ্যাতি পান ২০০৬ সালে। ব্যাপক সংখ্যক শিশু দত্তক নেওয়ার ঘটনা তখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তার। হেবেই প্রদেশের উয়ান শহরে বাস করতেন তিনি। তার এই জনহিতকর কাজের কারণে তার বসবাস করার গ্রামকে ‘লাভ ভিলেজ’ নামে অভিহিত করা হয়। খ্যাতি পাওয়ার ঐ সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন এক সময়ে বিয়ে করলেও পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার অভিযোগ তার সাবেক স্বামী তাদের ছেলেকে সাত হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে পাচার করে দেয়।

পরে অনেক চেষ্টা করে তিনি নিজের ছেলেকে ফিরে পেতে সমর্থ্য হন। আর তখন থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন অন্য শিশুদের সহায়তা করবেন। এছাড়া তিনি কয়েক বছর আগে দাবি করেছিলেন তার ক্যানসার ধরা পড়েছে। ফলে এ শিশুদের দেখভাল করার জন্য অনেক অর্থ প্রয়োজন। সবকিছু ঠিকঠাক করেই তিনি মৃত্যুবরণ করতে চান। এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করেও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।