শখের গরু বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধা মাজেদার, ট্রেনে কাটা পড়ে গরুটিও নিহত

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ১৮:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ইমামবাড়ি গ্রামে ‘শখের গরু’ বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মাজেদা খাতুন (৭৮) নামের এক বৃদ্ধা। এসময় ট্রেনে কাটা পড়ে গরুটিও মারা যায়। 

বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাজেদা খাতুন ওই গ্রামের প্রয়াত ওহিদ ভূঁইয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, গরু পালন ছিল মাজেদা খাতুনের বহুদিনের শখ। পরিবার থেকে আপত্তি থাকলেও তিনি নিজেই গরুর দেখভাল করতেন। গরু বিক্রির প্রসঙ্গে পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। গরুটিকে অন্য কারও কাছে দেওয়ার কথা ওঠলে তিনি কয়েকদিন খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। অবশেষে পরিবারের সদস্যরা তার সিদ্ধান্তে সায় দেন।

বুধবার বিকেলে মাঠ থেকে গরুটি বাড়ি ফেরানোর পথে ঘটে দুর্ঘটনাটি। রেললাইনের পাশে থাকা অবস্থায় গরুটি আচমকাই লাইনে উঠে গেলে ট্রেন আসতে দেখে তিনি গরুটিকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। গরুর গলায় বাঁধা রশি তিনি হাত দিয়ে ধরে ছিলেন। ট্রেনটি গরুটিকে চাপা দিলে রশির টানে মাজেদা খাতুনও ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পরে আখাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় দোকানি রহিম উদ্দিন মুন্সি বলেন, তিনি খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। একবার হজ করে এসেছেন, আবার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেমন নিষ্ঠা ছিল গরুর প্রতি, তা এই ঘটনার মাধ্যমেই বোঝা যায়।

মাজেদার ভাতিজা নিজাম উদ্দিন বলেন, এই শখের গরুই এখন কাল হয়ে দাঁড়াল। পশুর প্রতি এমন ভালোবাসা সত্যিই বিরল।

মৃতার বড় ছেলে নাসির ভূঁইয়া বলেন, আমার মা নিজের জীবনের বিনিময়ে প্রিয় গরুটিকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। আমরা বহুবার নিষেধ করলেও তিনি কখনও আমাদের কথায় কর্ণপাত করতেন না।

এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। গরুর রশিটি তার হাতে বাঁধা ছিল বলেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ইত্তেফাক/এএইচপি