আর্কটিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: চীনা বিশেষজ্ঞ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৬

যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এটি এই অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। সাংহাই সেন্টার ফর রিমপ্যাক স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক ঝাং ইয়াও এমনটাই মনে করেন।

গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্রমবর্ধমান হারে আর্কটিককে বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে এবং আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সামরিক উপায়ের ওপর আরও বেশি জোর দিচ্ছে, তখন এই অঞ্চলটি ধীরে ধীরে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের একটি নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।'

বিশেষজ্ঞ স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে চীন ও অন্যা সব দেশই আর্কটিক অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং অন্যান্য বৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করার সম্পূর্ণ অধিকার রাখে। তবে চীন ও এই অঞ্চলের অন্যান্যদের কার্যকলাপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত 'একটি ধ্রুপদী আধিপত্যবাদী মানসিকতাকে' প্রতিফলিত করে।

ঝাং উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন আর্কটিকের সামরিকীকরণের ওপর ক্রমবর্ধমান জোর দিচ্ছে, যেখানে রাশিয়া এবং চীনের উপস্থিতি ও  কার্যকলাপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুমকি হিসেবে দেখে।

চীনা বিশেষজ্ঞ এই অঞ্চলে পেন্টাগনের ক্রমবর্ধমান 'ঘন ঘন সামরিক মহড়ার' দিকে ইঙ্গিত করেন। ঝাং উল্লেখ করেন, আর্কটিক অঞ্চলের মার্কিন অংশ আলাস্কা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। সেখানে উন্নত অস্ত্র রয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর আর্কটিক সংঘর্ষকে আরও গভীর করে তোলে।

ঝাং আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আর্কটিকের ওপর ওয়াশিংটনের মনোযোগ আরও তীব্র হয়েছে। ইউক্রেন সংঘাতের পর ইউরোপ রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করার ফলে, তারা ব্যয়বহুল মার্কিন জ্বালানি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে। আর্কটিকের সমৃদ্ধ সম্পদ - যার মধ্যে বিরল মাটির ধাতুর মজুদ রয়েছে, এগুলো মার্কিন জ্বালানি এজেন্ডার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।

ইত্তেফাক/এসকে