হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম মেনে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই হরমুজে থাকা ব্রিটিশ ফ্রিগেট এইচএমএস মস্ট্রোস যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী নৌযানগুলোকে প্রণালিটি পার করিয়ে দিয়েছে। হরমুজে ব্রিটিশ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন নীতির কথা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা ও বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই স্বাধীনতার সুরক্ষায় সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেব আমরা।’
ইরান কর্তৃক তেলবাহী ট্যাংকার স্টেনা ইমপেরিও জব্দ হওয়ার পর ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে সম্ভব হলে ওই প্রণালি এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সব নৌযানকে পাহারা দিয়ে প্রণালিটি পার করানোর মতো অবকাঠামো নেই জানিয়ে হরমুজ ব্যবহার ‘জরুরি হলে’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীকে অবগত করতেও বলেছিল তারা। বৃহস্পতিবার ওই নীতিতে পরিবর্তন এনে ব্রিটেন নিজেদের সব নৌযানকে নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা হরমুজ থেকে গত শুক্রবার ইরান স্টেনা ইমপেরিওকে আটক করার পর থেকে লন্ডন-ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। জিব্রাল্টারে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা ইরানি সুপার ট্যাংকার গ্রেস ওয়ানকে আটকের পাল্টা ঘটনা হিসেবে দুই সপ্তাহ পর তেহরান ঐ ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানটি আটক করে।
সিরিয়ার বানিয়াস শোধনাগারে জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছিল সন্দেহে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশ মেরিনের সহায়তায় গ্রেস ওয়ানকে জব্দ করার কথা জানায়। বানিয়াস শোধনাগারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আছে। গত সপ্তাহে হরমুজ থেকে স্টেনা ইমপেরিওকে আটকের কারণ হিসেবে তেহরান বলেছে, ব্রিটিশ নৌযানটি পারস্য উপসাগরে একটি মাছধরার নৌকার সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িয়েছিল। লন্ডন এই ট্যাংকার জব্দের ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্বে একটা প্রহরা ব্যবস্থাপনা চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল।
