শিরিনকে ছাপিয়ে দ্রুততম মানবী সুমাইয়া, দ্রুততম মানব ইমরানুর

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৪৮

শুক্রবার বিকালে মার্চপাস্ট শুরু হওয়ার আগ থেকে তপ্ত রোদ। তবে ইভেন্ট শুরু হওয়ার পরপরই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, রোদ যেন মুহূর্তেই হাওয়া। এর মধ্যেই। ১০০ মিটারে ইংল্যান্ড প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান রহমান নিজের দ্রুততম মানবের খেতাব জিতে নেন। এই ইভেন্ট শেষ হতেই শুরু হয় নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। কয়েক সেকেন্ডে এই ইভেন্টটি শেষ হয়, প্রাথমিকভাবে বিজয়ী হন নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান। 

তবে এই ফলাফলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানান নৌবাহিনীরই আরেক স্প্রিন্টার শিরিন আক্তার। তাতেই বাধে ঝামেলা। সব ইভেন্টের ফলাফল তাৎক্ষণিক পাওয়া গেলেও এই স্প্রিন্টের ফলাফল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো। সব কিছু তৈরি থাকার পরও এই ফলাফল নিয়ে হয়েছে নাটকীয়তা। তবে শেষ পর্যন্ত সুমাইয়াই পেয়েছেন স্বর্ণপদক।

জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে ফলাফল নিয়ে এমন জটিলতা নতুন কিছু নয়। সবশেষ জাতীয় অ্যাথলিটিক্সেও দেখা গিয়েছিল এমন চিত্র। গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে মেয়েদের ১০০ মিটার শেষ হওয়ার পর সুমাইয়াকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। তাৎক্ষণিক শিরিন এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান আয়োজক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে। তবে অনেক বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত সুমাইয়াকেই দ্রুততম মানবী ঘোষণা করেন বিচারকেরা। 

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। সবশেষ ২০২২ সালে এই শিরিনকে হারিয়েই প্রথম বারের মতো দ্রুততম মানবী হয়েছিলেন সুমাইয়া, সেই বার তিনি এই ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন বিকেএসপির হয়ে। এবার স্বর্ণ জিততে সুমাইয়া সময় নিয়েছেন ১২.১৯ সেকেন্ড। শিরিনের লেগেছে ১২.২১ সেকেন্ড। ১২.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন শরিফা খাতুন। সুমাইয়া ও শিরিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ও শরিফা বাংলাদেশ আর্মির।

পরে দ্রুততম মানবীর খেতাব ফিরে পাওয়া নিয়ে সুমাইয়া দেওয়ান বলেন, 'আমার খুব ভালো লাগছে আমি আমার আগের জায়গায় (চ্যাম্পিয়ন হওয়া) আসতে পেরেছি। এর জন্য আমি আমার কোচ, নৌ-বাহিনী এবং বিকেএসপির প্রতি কৃতজ্ঞ। এর আগে আমি ২০২২ সালেই আপুর (শিরিন আক্তার) বিপক্ষে প্রথম হয়েছিলাম। তারপর অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি কষ্ট করেছি, তার মাধ্যমেই ২০২৫ সালে আবার স্বর্ণ পদক জিতেছি।'

এদিকে ইংল্যান্ড প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান আবারও বাংলাদেশের দ্রুততম মানব হয়েছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেননি ইমরান। তখন ইসমাইল দ্রুততম মানব হয়েছিলেন। এবার সামার অ্যাথলেটিক্সে ইমরান ফেরার পাশাপাশি খেতাবও ফিরে পেয়েছেন। ইমরানুর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে ১০.৬৪ সেকেন্ড টাইমিংয়ে প্রথম হয়েছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর আব্দুল মোতালেব ১০.৮৬ সেকেন্ড নিয়ে হয়েছেন দ্বিতীয়। জাতীয় চ্যাম্পিয়নে স্বর্ণ জেতা ইসমাইল হোসেন মুকুট ধরে রাখতে পারেননি। ১০.৮৮ সেকেন্ড নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি।

পুনরায় দ্রুততম মানব হয়ে ইমরানুর বলেন, 'নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ৬-৭ মাস ইনজুরিতে ছিলাম। অপারেশনও হয়েছে, কঠিন সময় পার করে আবার প্রথম হয়েছি এজন্য ভালো লাগছে।' বাংলাদেশে দ্রুততম মানব হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ১০০ মিটারে ১০.৬৪ টাইমিং মানসম্মত নয়। এ নিয়ে ইমরান বলেন, 'এটা এখন ঠিক আছে, কারণ আমি মাঝে ২-৩ মাস অনুশীলনের বাইরে ছিলাম। সামনে এসএ গেমসে ভালো কিছু করতে চাই।' 

সবশেষ তিন বছর ইমরানুর খেলেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে। প্রতিবারই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম হয়েছেন, ২০০ মিটারেও একবার হয়েছিলেন প্রথম। এবার সেই চ্যাম্পিয়ন ধারাবাহিকতাই ধরে রেখেছেন নৌবাহিনীর হয়ে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে এই বাহিনীর হয়েই দেশের বিভিন্ন স্প্রিন্টে দেখা যাবে ইমরানুরকে।

অন্যদিকে শুক্রবার প্রথম দিনে হয়েছে ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ড। ডিসকাস থ্রো (পুরুষ) ৪৬.৯৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আব্দুল আলিম। পূর্বে এই ইভেন্টে ২০১০ সালে একই সংস্থার আজহারুল ইসলাম তখন ৪৪.৯৮ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। এছাড়া শটপুট (মহিলা) ইভেন্টে জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ১৩.৯১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড অর্জন করেন। পূর্বে এই ইভেন্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। তখন ১৩.৫২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। 

সব মিলেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত মোট ১১টি ইভেন্ট সম্পন্ন হয়। যেখানে ৭টি স্বর্ণ, ৬টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জ মোট ১৯টি পদক নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে। ৫টি স্বর্ণ, ৬টি রৌপ্য এবং ৩টি ব্রোঞ্জ সহ মোট ১৪ টি পদক নিয়ে ২য় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ১টি করে বোঞ্জ পদক নিয়ে ৩য় অবস্থানে আছে বিকেএসপি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ