নাটোরে খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে যুবককে অপহরণের চেষ্টা, আটক ২

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৭

নাটোরের সদর উপজেলায় ইমরান নামে এক ইউটিউবারকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কানাইখালি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. ওয়াদুদ হোসেন শিহাব এবং গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু গ্রামের দুলু মিঞার ছেলে মো. রাব্বানী। তাদের কাছ একটি প্রাইভেটকার ও একটি খেলনা পিস্তল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইমরান জানান, তাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাণের ভয়ে তিনি চিৎকার করেন।

এ বিষয়ে অপহরণের সঙ্গে জড়িত রাব্বানী জানান, ওয়াদুদসহ তারা তিন বন্ধু মিলে দুটি ইউটিউব ও দুটি ফেসবুক চালান। তাদের কনটেন্ট আগে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। পরে ইউটিউবে আপলোড করেন। কিন্তু ইমরান ফেসবুকে আপলোড করার পরপরই কনটেন্টটি ডাউনলোড করে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে।

পরে যখন তারা তাদের তৈরি কনটেন্টটি ইউটিউবে আপলোড করেন, তখন ইমরান স্ট্রাইক দেয়। এভাবে তাদের দুটি ইউটিউবে চ্যানেল নষ্ট করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য ইমরানকে নিয়ে তারা একজনের সঙ্গে বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে চিৎকার করায় বিপত্তি ঘটে। সব শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশের সংবাদ দিলে পুলিশ এসে অপহৃত ইমরানকে উদ্ধার এবং রাব্বানী ও ওয়াদুদকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) পেজ থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে ইউটিউবে আপলোড করার জেরে ভুক্তভোগী ইমরানের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার রাত ৯টার দিকে এক বন্ধুর মাধ্যমে ইমরানকে বড় হরিশপুর বাস কাউন্টারে ডেকে আনা হয়। পরে কৌশলে তাকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্টেশন এলাকার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গাড়িটি শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ইমরানের চিৎকারে স্থানীয়রা প্রাইভেটকারটি আটকায়। তখন দুজন পালিয়ে গেলেও দুজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে তল্লাশিতে গাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলের আদলে তৈরি একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনটিএম