মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম একটি বাঁশের সাঁকো। ছোট্ট একটি ব্রিজের অভাবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার করছেন গ্রামবাসী। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও বাজার হতে দেড় কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখান ইউনিয়নের দুগাংগা এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে উদনা ছড়া। এ ছড়ার ওপরে একটি ভাঙা বাঁশের সাঁকো সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামবাসীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ইউনিয়নের দুগাংগা, পূর্বসিক্কা, ডোবাগাঁও ও উদনারপার এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে ইউনিয়ন অফিস, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে এ বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করে থাকে।
দুগাংগা গ্রামের ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, এ উপজেলার সব এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হলেও এ গ্রামের চিত্র ভিন্ন। রাস্তা পাকাকরণ ও সেতু না থাকার কারণে জরুরি প্রয়োজনে গ্রামের ভেতরে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। এ এলাকার লোকজনকে এখনো হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। মাথায় করে তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীসহ হাটবাজারে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন সাঁকোটি।
গ্রামের বাসিন্দা মো. খালেদ হোসেন, রুপজান বিবি, আতিকুর রহমান, আব্দুল খালেকসহ অন্যরা জানান, প্রায় প্রতিবছর উদনা ছড়ার পাড় ভেঙে গিয়ে বন্যার পানিতে এ বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। তখন এলাকাবাসীর ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। কখনো কখনো শহর কিংবা আশপাশের বাজারহাট কিংবা অফিস-আদালতের সঙ্গে এখানকার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুর্ভোগের মারাত্মক আকার ধারণ করে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা মিলেমিশে নিজ উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত বা সংস্কারের কাজে নামতে হয়।
এ ব্যাপারে সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হেলাল বলেন, উদনা ছড়ার পাড়ে ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য উপজেলা পিআইও অফিসে একটি আবেদন দেওয়া আছে। তাছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য অত্র এলাকা ঘুরে দেখে গেছেন এবং খুব শিগগিরই এখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে স্থানীয়দের আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সিন্দুরখানের দুগাংগা এলাকায় উদনা ছড়ার পাড়ে ব্রিজ নির্মাণের কোনো আবেদন আছে বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, সাঁকোমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিগত ১০ বছরে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিক গুরুত্বের ভিত্তিতে ১১৩টি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের অধীনে ৪৫ ফুট পর্যন্ত ব্রিজের কাজগুলো হাতে নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
