খুলনায় শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। বনজ-ফলদ-ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছে ভরে আছে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দান। বিকিকিনি হচ্ছে নানা জাতের গাছের চারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের বৃক্ষমেলায় গাছের চারা বিক্রির পরিমাণ কমেছে। আজ শনিবার এই বৃক্ষমেলা শেষ হচ্ছে।
খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে গত ১১ জুলাই থেকে বসেছে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। প্রতিদিন মেলায় প্রয়োজনীয় গাছের খোঁজে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে লেবু, জাম্বুরা, পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন, কমলা, নাশপতি, সফেদাসহ বাহারি ফলের গাছ। চোখ জুড়ানো সবুজের মেলায় এসে খুশি দর্শনার্থীরা।
মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে নানা জাতের আম গাছ। মেলা সেজেছে ল্যাংড়া, আম্রপলিসহ শতাধিক জাতের আম গাছে। মেলায় আসা মানুষের আগ্রহ বেশি আম গাছের প্রতি। বিভিন্ন জাতের ফলের পাশাপাশি অর্কিড, ক্যাকটাস, বনসাই, ড্রসিনা, অ্যানথোরাম, মুসান্ডা, এরিকা ফুলের গাছ মেলার সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছে বহুগুণে। মেলাজুড়ে আছে বনজ বৃক্ষের সমাহার। মাত্র ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার শৌখিন গাছ শোভা পাচ্ছে এবারের বৃক্ষমেলায়। বিশেষ করে যারা বাড়ির ছাদে বাগান করেন তারা কিনছেন ফল-ফুলের বিভিন্ন গাছ।
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ঠিক বাম পাশে রয়েছে ‘ম্যাজিক ফেরোমন সবজি স্পেশাল’ নামে একটি বেড। যেখানে একই সঙ্গে মাছ, সবজি ও ফলদ-বনজ গাছ চাষের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে ভোজনরসিকদের পছন্দের অন্যতম মাংস রান্নার উপকরণ ‘চুইঝাল’ এর গুণাগুণ সংবলিত ফেস্টুনও।
সবমিলে জমজমাট এবারের বৃক্ষমেলা। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে মেলায় উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে বৃক্ষপ্রেমীদের। নাগরিক জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সবুজ অরণ্য যেন মেলায় টানছে নগরবাসীকে।
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় কমিটির হিসাব মতে, এবারের মেলায় স্টল রয়েছে ৫৬টি। মেলা উদ্বোধনের দিন বনজ ১১৩টি, ফলদ ৩১০টি, ঔষধি ১১৯টি, বর্ধণকারী ৩৪৯টি এবং ফুল গাছ বিক্রি হয়েছিল ২৩৫টি। যার মূল্য ছিল ৮৬ হাজার ৪৯৫ টাকা। গত ১১ জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৮ হাজার ৪২৩টি গাছ বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৯১১টাকা।
এদিকে, গত বছরের তুলনায় এবারের বৃক্ষমেলায় গাছের চারা বিক্রির পরিমাণ কমেছে। মেলা কমিটির হিসাব মতে গত বছর বৃক্ষমেলার ১৮ দিনে ৬৪ হাজার ৫৪৭টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছিল। যার মূল্য ছিল ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩২টাকা।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বপালনরত সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন সহকর্মী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষপ্রেমী ও নার্সারি মালিকদের দাবি মেলা এক মাস করার। এবারের বৃক্ষমেলায় চারা বিক্রির পরিমাণ কম হওয়ার জন্য মেলা শুরুর সময় খরা হওয়াকে দায়ী করেন তিনি। এছাড়াও প্রচারণা কম হওয়ার কারণেও বিক্রি কম হয়েছে।
খুলনা সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রী রওশন জেবিন তৃষা জানান, বৃক্ষমেলায় এলে মন ভালো হয়ে যায়। অনেক প্রজাতির গাছ দেখা যায়, চেনা যায়। তিনি বলেন, মেলা এক মাস হলে আরো ভালো হতো।
করিম নার্সারির প্রতিনিধি আকবর বিন ওসমানি জানান, এবারের বৃক্ষমেলার আয়োজন অনেক ভালো। বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। মানুষের মধ্যে শৌখিনতা বেড়েছে, ফলে অনেকেই এখন ছাদ কৃষির দিকে ঝুঁকছেন।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন জানান, আমরা এবার মেলায় আগত সব নার্সারি মালিককে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে চেষ্টা করছি। মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দর্শনার্থী বা ক্রেতারা সানন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দমতো বৃক্ষও কিনতে পারছেন।
