হকি ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক কাজী আবু জাফর তপন জাতীয় দলের খেলোয়াড় নাঈম উদ্দিনকে বাস্টার্ড বলে গাল দিয়ে ফেডারেশনকে ঝামেলায় ফেলে দিয়েছেন। যদিও তপন সরাসরি স্বীকার করেননি তিনি বাস্টার্ড বলে গাল দিয়েছেন কিংবা দেননি। তবে তার এমন কাণ্ডে হকি ফেডারেশন কর্তারা বিব্রত। মুখ দেখাতে পারছেন না।
ফেডারেশনের কর্তারা আড়ালে-আবডালে স্বীকার করছেন বাস্টার্ড বলে গাল দেওয়াটা তপনের উচিত হয়নি। তপন আচমকা এমন একটি কাজ করে বসবেন আমারও বুঝতে পারছি না।' তপন কেন এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করলেন তা ফেডারেশনের অন্যরাও বুঝতে পারছেন না।
তপনকাণ্ডের পর জাতীয় দলের বাদ পড়া অধিনায়ক পুস্কর খিসা মিমো, নাঈম উদ্দিন, নিলয়সহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলন করে তপনের পদত্যাগ দাবি করেছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এশিয়াড থেকে বাদ পড়ার কারণে মিমো এবং নাঈম উদ্দিন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কী কারণে তারা বাদ পড়েছেন। সঠিক প্রক্রিয়ায় যদি বাদ পড়ে থাকেন তাহলে মিমো-নাঈমদের আপত্তি নেই। কিন্তু তাদের কাছে মনে হচ্ছে পূর্বের শত্রুতার জেরে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এসব আলোচনার মধ্যে তপন হঠাৎ রেগে গিয়ে বেয়াদব এবং বাস্টার্ড বলে গাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেশনের মধ্যে তপন ইস্যুতে ছি ছি করছে, খেলোয়াড়রা তাকে ব্যাডবয় হিসেবে দেখছেন।
হকি ফেডারেশন এমন একটি পরিস্থিতিতে পড়েছে যে, এখন তারা সহজে কথা বলতে পারছেন না। সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে চাইছে না। তপন ইস্যুতে ফেডারেশন থেকে কোনো তদন্ত করা হচ্ছে কিনা, কিংবা ফেডারেশন সভাপতির মতামত কী জানতে চাইলে তপনের বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আভাস দিয়েছেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান।
গতকাল রিয়াজুল হাসান বলেন, 'সভাপতি সাহেব বিষয়টি দেখছেন। কিছু করার থাকলে উনি করবেন। তদন্ত কাকে দিয়ে করাবেন সেটি উনি নির্ধারণ করবেন।' সেদিনের ঘটনা রিয়াজুল হাসানের সামনেই ঘটেছে। তিনিও লজ্জায় পড়েছেন। ভদ্রলোক রিয়াজুল হাসান সহজ সরল মনের মানুষ। এ ধরনের ভাষা বলা বা শোনার মানসিকতা নেই। ফেডারেশনে আসেন কাজ করে চলে যান। কিন্তু তপনদের মুখের কারণে বিব্রত হতে হচ্ছে রিয়াজুল হাসানদের।
