বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে নির্মাণসামগ্রী রাখায় পাঠদান ব্যাহত

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১৬:২২

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ওয়াশব্লকগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি ওয়াশব্লক ভেঙে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, নির্মাণসামগ্রী শ্রেণিকক্ষে সংরক্ষণের ফলে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জিপিএস-১ প্রকল্পের আওতায় একতলা ও দোতলা বিশিষ্ট ওয়াশব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে মোট প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া ইত্যাদি ব্যবহার করছে।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে উত্তর দুরাকুটি ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ওয়াশব্লকের নির্মিত দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মোরছালিনুর রহমান জানান, “স্কুল ছুটির পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিম্নমানের ইট দিয়ে দেয়ালের গাঁথুনি সম্পন্ন করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম দ্রুত এসে দেয়াল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।”

কালিকাপুর ইউছুফ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের শালটু ইটের খোয়া। সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বেজ ও ছাদ ঢালাইয়ে প্রথম শ্রেণির খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও এখানে মানহীন খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্মাণ কাজে যুক্ত ঠিকাদার সুমন মিয়া বলেন, উত্তর দুরাকুটি ২নং বিদ্যালয়ের দেয়াল ভেঙে আবার নতুন ইট এনে কাজ করা হয়েছে। আর ঢালাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন, তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

বাহাগিলি ইউনিয়নের ময়দানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষে নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে পাঠদান কার্যক্রম একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে নতুন কোনো ভবন না থাকায় একটি শ্রেণিকক্ষে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে, ফলে ক্লাস চালানো যাচ্ছে না। ঠিকাদার ক্লাসরুমকেই শেড হিসেবে ব্যবহার করছে।

ঠিকাদার রিপন মিয়া বলেন, শ্রেণিকক্ষে মালামাল রাখা হয়েছে ঠিক, তবে কাজ দ্রুত শেষ করে সরিয়ে নেওয়া হবে। শেড বানানো ঝামেলা, তাই শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের ইট দেখতে পেয়ে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়ার ব্যাপারে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, তবে জনস্বাস্থ্য দপ্তর আমাদের ঢালাইয়ের সময় কিছুই জানায় না।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, উত্তর দুরাকুটি বিদ্যালয়ের ওয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়েও নিম্নমানের উপকরণ পেলে তাৎক্ষণিক সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ঢালাইয়ের সময় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম এবং যাচাই করেই কাজের অনুমতি দিয়েছি। মৌখিকভাবে সবাইকে জানানো হয়, লিখিতভাবে জানানোর নিয়ম নেই।

ইত্তেফাক/এএইচপি