মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থানের কারণে মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আস্থা কমছে। এতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভাবনা বাড়ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার।
জাপানের শাসকদল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করা কঠিন। দলটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রুই মাতসুকাওয়া জানান, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় পাশে থাকবে, এটা ধরে নেওয়া যাবে না। তাই বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হবে। সেই বিকল্প হতে পারে পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলা।
অপরদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ চান দেশটি নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক। যদিও প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এ প্রস্তাব নাকচ করেছেন। তার দলের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এইদিকে চীন দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র বাড়াচ্ছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে ৬০০-এর বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান চাইলে দুই বছরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে। দেশটির কাছে রয়েছে ৪৫ টন প্লুটোনিয়াম ও উন্নত রকেট প্রযুক্তি। এ কারণেই জাপানকে ‘থ্রেশহোল্ড নিউক্লিয়ার স্টেট’ বলা হয়।
জাপানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইৎসুনোরি অনোদেরা বলেন, ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি মিত্রদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাবেক নৌপ্রধান তোমোহিসা তাকেই বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আস্থাহীনতা আরও বাড়িয়েছে।
চীন জানিয়েছে, জাপান আসলে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশটি শান্তিবাদী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা বিধ্বস্তরা এ প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত নিরাপত্তা আসে বিশ্বাস থেকে, অস্ত্র থেকে নয়।
সূত্র/ রয়টার্স
