বিশিষ্ট সাংবাদিক বেবী মওদুদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, বেবী মওদুদ ছিলেন নির্মোহ, নিরহংকার এবং একজন সাদা মনের মানুষ। সারাজীবন তিনি মানবতার একনিষ্ঠ সাধনা করেছেন। তিনি সবসময় লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে ছিলেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেবী মওদুদের শুভানুধ্যায়ীরা এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, সবসময় মানুষের সেবা করতে ভালোবাসতেন বেবী মওদুদ। তিনি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে নিজেকে ধন্য মনে করতেন। বেবী মওদুদকে বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার তাঁর সরল জীবনযাপন ও আদর্শের জন্য। তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি ছিলেন লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে।
তিনি আরো বলেন, বেবী মওদুদের কর্মপরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত। সারাজীবন তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অনেক সখ্য ছিল। চাইলে অনেক কিছু অর্জন করতে পারতেন, কিন্তু করেননি। মানুষের সেবা করে গেছেন সবসময়।
শামসুজ্জামান খান বলেন, আমাদের এ সময়ে মানবিক মূল্যবোধ নেই। কিন্তু, এর মধ্যে বেবী ছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যেখানে মানুষ সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বেবী মওদুদকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি লোভ-লালসা পছন্দ করতেন না।
স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন শেখ হাফিজুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, বেবী মওদুদের ভাই আজিজুল হক, ছেলে রবিউল হাসান অভি, পুত্রবধূ চয়নিকা চৌধুরী প্রমুখ।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, বেবী মওদুদ ছিলেন আপাদমস্তক একজন ভাল মানুষ। তিনি যাদের ভালবেসেছেন তাদের কাছেই তিনি বেশি আঘাত পেয়েছেন। আমরা অনেকে ভালবাসতে জানি না বলে বেবী আপাকে বুঝি নাই।
বেবী মওদুদের ছোট ভাই আজিমুল হক রায়হান বলেন, বড় আপার হাতেই আমি মানুষ, দুলাভাই মারা যাওয়ার পর প্রায় ৫ বছর তার কাছে কাটিয়েছি। বড় আপা অনেক কিছু শেয়ার করতেন।
