জোয়ার এলেই ডুবে যায় স্কুল মাঠ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৫১

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৮১নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দীর্ঘদিন ধরে সামান্য জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ভিজে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকটও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৩ সালে। পরে ২০০১ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নলছিটির নাচনমহল ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি ফলাফলের দিক থেকে ভালো অবস্থানে থাকলেও, অবকাঠামোগত সমস্যায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বিষখালি নদীর কারণে সামান্য জোয়ারেই মাঠ ও সামনের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক আফজাল আকন বলেন, এলাকায় একটিমাত্র সরকারি বিদ্যালয় এটি। মাঠটি পানিতে তলিয়ে থাকে, আবার পানি কমলে কাদা হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহার করতে পারে না। শিশুদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই, কিন্তু আমাদের সন্তানেরা সে সুযোগ পাচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা জানায়, বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে। আবার জোয়ারে মাঠ আর রাস্তা দুইটাই ডুবে যায়। তখন আমরা একা স্কুলে যেতে পারি না। অনেক সময় মা-বাবা বা শিক্ষকরা আমাদের এগিয়ে দিয়ে যান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, মাঠে পানি জমে থাকার কারণে কয়েক বছর ধরে সকালের নির্ধারিত পিটি (শারীরিক শিক্ষা) করা যাচ্ছে না। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন।

নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আমরা অবহিত। আমি এই ব্যাপারে যথাযথ কতৃপক্ষকেও অবহিত করে রেখেছি। আশাবাদি খুব শীঘ্রই একটা সমাধান হবে। 

ইত্তেফাক/এএইচপি