জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী ২৮ আগস্ট 

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৪০

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে আধুনিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক, দৈনিক আজকের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কাজী শাহেদ আহমেদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ২৮ আগস্ট।

২০২৩ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী কাজী শাহেদ আহমেদের জন্ম ১৯৪০ সালের ৭ নভেম্বর যশোরের পুরাতন কসবার কাজীপাড়ায়। তার পূর্বপুরুষ যশোরের দেয়াপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।

তৎকালীন পাকিস্তানের লাহোর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তার প্রথম পোস্টিং ছিল মারি ও আজাদ কাশ্মীরে। পবর্তীতে ১৯৬৭ সালের শেষের দিকে তিনি রিসালপুর ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার্স অফিসার্স কোর্সে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন প্লাটুন কমান্ডারদের একজন। 

১৯৬৯ সালের ২ জানুয়ারি আমিনা আহমেদের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার তিন সন্তান কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী আনিস আহমেদ ও কাজী ইনাম আহমেদ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সপরিবারের প্রিজনার অব ওয়ার ক্যাম্পে বন্দী ছিলেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদান অসামান্য। তিনি কুমিল্লায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৯ সালে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লি. প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরপর তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একে একে প্রতিষ্ঠা করেন জেমিনি সি ফুড, দেশের প্রথম ও একমাত্র অর্গ্যানিক চা বাগান কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট লি., মীনা বাজার, জেমকন ইঞ্জিনিয়ারিং, জেম জুট লিমিটেড। 

চিরায়ত এক জ্যোতির্ময় বিশ্বকে ধারণ করে ২০০২ সালে তিনি গড়ে তোলেন ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।
 
সমাজসেবা এবং মানবতায় তার অবদান হিসেবে তিনি যশোরের নিজ অর্থায়নে স্থাপন করেন সন্দীপন এতিমখানা। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশন যা পঞ্চগড়ের অসহায়, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে আজও।
 
তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল লেখালেখি। তার লেখা প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে আমার লেখা, ঘরে আগুন লেগেছে। তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো জীবনের শিলালিপি। বহুলপঠিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ভৈরব, পাশা, অপেক্ষা, দাঁতে কাঁটা পেনসিল, শিলু ও তাপসের কথা ও কাহিনী।

ইত্তেফাক/এএইচপি