সিলিন্ডার কেটে খোলাবাজারে বিক্রি এলপিজির বাজারে নতুন সংকট

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৫১

দেশের গৃহস্থালি জ্বালানি এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। মূল্যবান গ্যাস সিলিন্ডার কেটে সাধারণ লোহার খণ্ড হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে অল্প কয়েকটি কোম্পানি সিলিন্ডার তৈরি করে। বিদেশ থেকে আমদানি করে অনেকে। এমন অবস্থায় ব্যবহার বাড়তে থাকা এলপির সিলিন্ডারের এমন অপচয় ও অপব্যবহার বৈদিশিক মুদ্রার অপচয় করবে। অনেক পুরোনো ও জীর্ণ সিলিন্ডার এখনো বাজারে রয়েছে।  নতুন সিলিন্ডার যত্ন করার ব্যাপারে গ্রাহক ও দোকানদারদের মধ্যে অবহেলা দেখা দেবে। আর সার্বিকভাবে সিলিন্ডারের সংকটে এলপিজির সংকটও তৈরি হবে। লোকসান গুনবেন এই খাতে বিনিয়োগকারীরা।

চট্টগ্রাম, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এমন সিলিন্ডার কেটে বিক্রির ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে। তারা সিলিন্ডার কেটে স্ক্র্যাপড লোহা হিসেবে স্টিল কোম্পানিসহ লোহা ব্যবহার করে এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে। চট্টগ্রামের সাগরিকায় অবস্থিত বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ও মাদারবাড়ীর জননী এন্টারপ্রাইজে সিলিন্ডার কেটে তা স্ক্র্যাপড লোহা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বলে কিছু ছবি ও ভিডিওতে উঠে এসেছে। 

কয়েকটি এলপিজি কোম্পানি জানায়, ১২ কেজি এলপি ধারণক্ষমতার একটি সিলিন্ডারের আমদানিকৃত মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এলপিজির বাজার এখনো নতুন হওয়ায় প্রতিটি সিলিন্ডার গড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস রিফিলের মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয় কোম্পানিগুলো। মানভেদে প্রতিটি সিলিন্ডার ৫ থেকে ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই জীবনসীমা শেষ হওয়ার আগে এগুলো নষ্ট করা হলে সংকট তৈরি করবে। এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

দেশের বাজারে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বছরে ৭০ থেকে ৮০ লাখ সিলিন্ডার রিফিল হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি বড়ো এলপি সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার পর পুরোনো অনেকগুলো সিলিন্ডার বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকারি সংস্থা বিপিসিসহ কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, এলপিজি ব্যবসার জন্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে ৫৭টি কোম্পানি। এর মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন বা বাজারজাত করার অনুমোদন পেয়েছে সাতটি কোম্পানি। এই সাতটিসহ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ২২টি কোম্পানি খুচরা বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রি করছে। বাজারে মিলছে এমন কোম্পানি বা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা, ওমেরা, বেক্সিমকো, পেট্রোম্যাক্স, টোটাল, বিএম এলপি গ্যাস, এনার্জিপ্যাকের জি গ্যাস, লাফ্স গ্যাস, ওরিয়ন গ্যাস, ইউনি গ্যাস, ইউরো গ্যাস,  ইউনিভার্সাল, ইন্ট্রাকো, যমুনা ও সেনা এলপিজি। সরেজমিন পর্যবেক্ষণ এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় দেখা যায়, কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডারে এলপি বোতলের জীবনসীমা খোদাই করা থাকলেও অনেকেই তা উল্লেখ করছে রং দিয়ে লিখে। এগুলো অনেক সময়ই অস্পষ্ট থাকে এবং বোঝা যায় না। আবার অনেক বোতলে খোদাই করা কিংবা রং দিয়ে লেখা জীবনসীমার উল্লেখ কোনোভাবেই দেখা যায় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, কিছু ডিলার ও দোকানদার বিষয়টির অন্যায্য সুযোগ নেন।

এদিকে এলপিজির বাজারে বড় শেয়ার রয়েছে এমন একটি কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক বলেন, বাজারে নতুন কয়েকটি কোম্পানি অন্য কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডারের সংখ্যা কমাতে কিছু ডিলার-দোকানদারকে ব্যবহার করে সিলিন্ডার কাটাচ্ছে। ঐ কোম্পানিগুলোর নিম্নমানের সিলিন্ডারগুলোর দামও অপেক্ষাকৃত কম।