খুলনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও এক সাব পোস্ট মাস্টারকে ৮ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াছিন আলী।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া শাখার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দ জাহিদুর রহমান এবং নলতা–মোবারকনগর সাব পোস্ট অফিসের সাবেক পোস্ট মাস্টার মো. নাজমুল ইসলাম। এর মধ্যে মো. নাজমুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে সৈয়দ জাহিদুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত আটুলিয়া শাখায় দায়িত্বে থাকাকালে শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দ জাহিদুর রহমান জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেন। তিনি চেকে জাল স্বাক্ষর ও ভূয়া ঋণ প্রদর্শন করে মোট ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ৫২৪ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল গ্রামীণ ব্যাংকের পরবর্তী শাখা ব্যবস্থাপক মোহা. আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন। পরে দুদকের তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং আদালতে চার্জ গঠন করা হয় ২০২২ সালের ২৪ মে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সৈয়দ জাহিদুর রহমানকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ৫২৪ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নলতা–মোবারকনগর সাব পোস্ট অফিসের সাবেক পোস্ট মাস্টার মো. নাজমুল ইসলাম সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি খাতের ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দেবহাটা থানার পোস্ট অফিস পরিদর্শক মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। আদালত নাজমুল ইসলামকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট সেলিম আল আজাদ বলেন, আসামিরা আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দুদক সঠিকভাবে তদন্ত করে আদালতে সাক্ষ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আদালতও যথাযথ বিচার বিশ্লেষণ করে রায় দিয়েছেন।
