যমুনার পানি সামান্য বাড়লেও কমতে শুরু করেছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি। এতে জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত মানুষ ফিরতে শুরু করেছে বাড়িঘরে। যাদের বাড়িঘরে এখনো পানি আছে, তারা ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ দিন পর বন্যাকবলিত এসব এলাকার মানুষ সড়ক, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতে বানভাসিদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিত্সাসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে ত্রাণের অপ্রতুলতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, গোখাদ্যের সংকটে বিভিন্ন জেলার বন্যার্তরা বিপাকে পড়েছে। পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ইত্তেফাকের আঞ্চলিক অফিস, জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
যমুনা ছাড়া কমছে সব নদ-নদীর পানি :বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী গতকাল যমুনার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ সেন্টিমিটার বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামে ধরলার পানি ২৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৪৬ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৩২ সেন্টিমিটার, গাইবান্ধায় ঘাঘটে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনা ছাড়া দেশের প্রধান নদ-নদীর ১৯টি পয়েন্টে পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এর মধ্যে ৯টি পয়েন্টে পানি হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চাচল ও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। গতকাল পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বাড়িঘরে ফিরছে বন্যার্তরা :জামালপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা ও নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিত যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে, সেই সব এলাকার মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যার পানিতে কারো ঘরে হাঁটু পরিমাণ কাদা। কারো ঘর আবার পড়ে গেছে মাটিতে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর বাসোপযোগী করতে দিন-রাত কাজ করছে তারা। কারো ঘরে এখনো পানি। অপেক্ষা করছে পানি নেমে যাওয়ার। গাইবান্ধায় দুই পৌরসভাসহ সাত উপজেলার ৫১ ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রামে প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। যাদের বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে, তারা তাকিয়ে আছে সাহায্য-সহযোগিতার দিকে। জেলা ত্রাণ বিভাগ জানায়, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাড়িঘরে ফিরে গেছে। তবে গতকাল দেখা যায়, জেলা সদরের প্রায় সব এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের লোকজন এখনো জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় প্রায় আড়াই লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৮৫৩টি। জামালপুর জেলায় বন্যায় অর্ধলক্ষাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে এবং ৪৫ হাজার ৫৮০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সাহায্য করা হোক।
বন্যায় রংপুরে নদীতে বিলীন ৭টি বিদ্যালয় ভবন :বন্যায় রংপুর বিভাগের ছয় জেলায় ৫৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সাতটি বিদ্যালয় ভবন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৭টি প্রতিষ্ঠান। রংপুর জেলায় চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার একটি ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রাজীবপুরে দুটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি একটি বিলীন হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়।
