উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

সিলেটে ‘বোমা মেশিন’ বসিয়ে বালি-পাথর উত্তোলন চলছেই

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ‘বোমা মেশিন’ বা ‘সেইফ মেশিন’ লাগিয়ে বালি-পাথর উত্তোলন চলছেই। এতে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠছে। অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের মহোত্সবের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহল। ফলে স্থানীয় প্রশাসনও অ্যাকশনে যেতে পারছে না। 

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের আমরাইলছড়া, উদনাছড়া ও মরাছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোত্সব চলছে। একইভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা জাফলং চা-বাগানের কাছ থেকে উঠানো হচ্ছে পাথর। ফলে সেখানে নদী ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

সূত্র মতে, শ্রীমঙ্গলে ২৯টির  মধ্যে ২৭টি বালুমহাল থেকে বালু তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে হাইকোর্টের। কিন্তু প্রতিদিন ছড়া হতে প্রায় অর্ধশত ট্রাক বালু উত্তোলন চলছে। এতে এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। সাতগাঁও-খারিউজ্জামা রাস্তা ভেঙে একাকার। লাহারপুর-গাজীপুর রাস্তা দিয়ে কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না।  শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এ ব্যাপারে সিন্দুরখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।  নির্বাহী অফিসার বিষয়টি আমলে নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

এদিকে সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটের নয়নাভিরাম জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর বুকে  অবৈধ ‘বোমা’ মেশিনের সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে ‘সেইফ’ মেশিন। এগুলো দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে। এতে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে নদী তীর, তীরবর্তী  গ্রাম, জনপদ, ফসলি জমি, চা-বাগান, ফলবাগান।  অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে। জাফলং চা-বাগানসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম তীব্র ভাঙনের কবলে। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে চা-বাগানের ৩০০ একর ভূমি, শতবর্ষী চা-গাছ ও অন্যান্য বৃক্ষ।

‘সেইফ’ মেশিনটি অনেকটা বোমা মেশিনের আদলে। তবে এটি কিছুটা ছোটো। এটি ৫০-৬০ ফুট গভীর থেকে আর বোমা মেশিন ২৫০ ফুট গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করতে সক্ষম। আগে রাতের আঁধারে ‘বোমা’ মেশিন নামত। এখন দিনের বেলায় ‘সেইফ’ মেশিন নামে। ২০১০ সালে উচ্চ আদালত পরিবেশ ধ্বংসী ‘বোমা’ মেশিনকে বেআইনি ঘোষণা করলেও  জাফলংসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে তা বন্ধ হয়নি। তাই নদী ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘বেআইনি কার্যকলাপে যারা লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফারুক বলেন, পিয়াইন নদী ভরাট হয়ে গেছে। এটি খনন করলে নদী ভাঙন বন্ধ হবে।’