ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রামগঞ্জে সহিংসতা, আহত ৫

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫০

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার এজিএস আবুল কাশেমসহ পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের বেইরীবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বনির্ধারিত কমিটি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই বিরোধের সূত্র ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়।

নির্বাচনে জাফর আহম্মদ পাটোয়ারী সভাপতি, টিপু সুলতান ভূঁইয়া সাধারণ সম্পাদক এবং মুরাদ হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থীরা হলেন- সাবেক সভাপতি মফিজ উল্যা, সাধারণ সম্পাদক পদে তারিকুল ইসলাম স্বপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জামাল হোসেন সাজু।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর বিজয়ী পক্ষের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কাশেমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ন্যক্কারজনক এই হামলার ঘটনা ঘটে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম এবং সাবেক সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন তুর্কী বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর এ ধরনের সহিংসতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দলের ঐক্য ও ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মজু বলেন, আবুল কাশেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরাই এই হামলার সাথে জড়িত।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। এ ধরনের ঘটনা লজ্জাজনক এবং কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এএইচপি