ধামগড় ইউনিয়নে সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ জনগণ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৫

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদে জনসেবার চিত্র অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত থাকায়, এলাকার সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বৈষম্যবিরোধী মামলায় বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। অপরদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান ১ বাবুল, প্যানেল চেয়ারম্যান ২ হাফেজ আইয়ুব এবং প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ সখিনা বেগম তিনজনই রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তারা নিয়মিত পরিষদে আসছেন না। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে গ্রেফতার হতে পারেন এই ভয়েই তারা পরিষদের কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।

পরিষদে চেয়ারম্যান বা কার্যকর প্রতিনিধি না থাকায়, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। 

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা জালাল মিয়া বলেন, আমরা চেয়ারম্যান না থাকায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

জাঙ্গাল এলাকার আব্দুস সামাদ বলেন, পরিষদে গিয়ে কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বারকে পাওয়া যায় না, কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করাতে পারি না।

হালুয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, আমরা খুব দুর্ভাগা। অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি পালিয়ে থাকায় সেবা নিতে পারছি না।

মনাবাড়ি, আমৈর, নয়ামাটি ও কামতাল এলাকার বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেন তারা জন্মনিবন্ধন করতে না পারায় সন্তানের বিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে, জমির ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে নামজারি করা যাচ্ছে না।

ধামগড় ইউপি সচিব হাসান জানান, আমরা সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্যানেল চেয়ারম্যান ১ বাবুল দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পরিষদে আসেন না, তবে সেবার প্রয়োজনে কিছু ‘ব্ল্যাংক সই’ দিয়ে গেছেন। তবে ব্ল্যাংক স্বাক্ষরের বৈধতা ও এতে দুর্নীতির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়ার মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ‘ব্ল্যাংক স্বাক্ষর’ রাখা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, ধামগড় ইউনিয়নে যদি জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি