জলরাশিতে শাপলার শোভা, দর্শনার্থীদের ভিড় খোয়াড় গ্রামে

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৪৯

প্রতিবছর বর্ষা এলেই ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খাল-বিল ও নিচু জমির জলাশয়গুলো সেজে ওঠে জাতীয় ফুল শাপলার মনোরম সৌন্দর্যে। এ সময় বিলগুলোতে ফুটে ওঠে ভাসমান সাদা শাপলা। সেই শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নৌকায় ঘুরে উপভোগ করছেন শাপলার মনকাড়া রূপ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গট্টি ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দোপের (জলাশয়) পানিতে সবুজ পাতার বুক চিরে সাদা শাপলা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সকালের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে শাপলার সেই সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসছেন আশপাশের মানুষ।

স্থানীয় হেমায়েত ফকির বলেন, মায়াময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা আমার জন্মস্থান খোয়াড় গ্রাম। বর্ষায় যখন সাদা শাপলা ফুটে, তখন পুরো গ্রাম যেন পরিণত হয় এক স্বর্গীয় সৌন্দর্যে। শাপলার সাদা রং আমাদের সহজ-সরল জীবনের প্রতীক।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খাল-বিল ও নিচু জমির জলাশয়গুলো সেজে ওঠে শাপলার মনোরম সৌন্দর্যে।

গ্রামের চাকরিজীবী মাফিকুল ইসলাম বলেন, চারদিকে সবুজ আর তার মাঝখানে সাদা শাপলার মেলা—এই দৃশ্য যে কাউকে মোহিত করবে। বিলের সৌন্দর্য, বাতাসের শীতলতা আর পাখির কোলাহল মিলে এক অপার্থিব অনুভূতি দেয়।

খোয়াড় গ্রামের আবু মুসা জানান, শুষ্ক মৌসুমে এখানে পেঁয়াজ ও পাট চাষ হলেও বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবেই গজায় শাপলা। এই শাপলা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, ভাদ্র-আশ্বিন মানেই শরৎকাল, আর শরৎ মানেই কাশফুল, শিউলি আর শাপলার রাজত্ব। শাপলা শুধু সৌন্দর্যই নয়, জীবিকারও সুযোগ তৈরি করেছে।

আরেক যুবক মামুনুর রশিদ বলেন, শান্ত দুপুরে সাদা শাপলার সৌন্দর্য একাকীত্ব ভেঙে দিয়ে মনে প্রশান্তি আনে। চোখে না দেখলে বোঝা যায় না এর মুগ্ধতা।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খাল-বিল ও নিচু জমির জলাশয়গুলো সেজে ওঠে শাপলার মনোরম সৌন্দর্যে।

জানা গেছে, খোয়াড় গ্রামে এখনো অনেক মানুষ ডিঙি নৌকা কিংবা তালগাছের ডোঙায় চড়ে শাপলার মাঝ দিয়ে যাতায়াত করেন। দুরন্ত কিশোর-কিশোরীরা ছোট নৌকা নিয়ে বের হয়, ফুল তুলে বাড়ি ফেরে। আগে এই বিল থেকে শাপলার শেকড় শালুক তুলে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন ছিল। এখন অনেকেই শাপলা ভাজি করে খেয়ে থাকেন।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার বলেন, এ উপজেলায় প্রতিবছর বর্ষা-শরৎকালে শাপলার সৌন্দর্য দেখা যায়। মানুষ তা উপভোগ করতে আসে। শাপলা ফুলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ। এর বীজ ও গুঁড়ো দিয়ে খই বানানো হয়। গ্রামের মানুষ শাপলাকে সবজি হিসেবেও খায়।

যেভাবে যাবেন শাপলার রাজ্যে:
ফরিদপুর শহর থেকে বাস বা অটোতে ঠেনঠেনিয়া কিংবা বালিয়াগট্টি বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা ভ্যানে করে খোয়াড় গ্রামে পৌঁছালেই দেখতে পাবেন সাদা শাপলার মনকাড়া দৃশ্য।

ইত্তেফাক/এএইচপি