২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পেলেও সেই অর্থ এখন পর্যন্ত বুঝে পায়নি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯৪ শিক্ষার্থী। আর চারমাস পর বৃত্তিপ্রাপ্ত পঞ্চম শ্রেণির সেই শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণি পেরিয়ে যাবে। সময়মত বৃত্তির অর্থ না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২২ সালে দৌলতপুর উপজেলার ২৮৪টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২ হাজার ৩১০ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধা তালিকায় ১০৯ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৮৫ জন, মোট ১৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে।
উপজেলা প্রাথমিক অফিস থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও বৃত্তির অর্থ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল ১৯৪ শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে সকল বৃত্তিপ্রাপ্তদের বাবা-মার সঙ্গে সরকারি তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে বলা হয়। হিসাব খোলার পরও অদ্যাবধি কেউ বৃত্তির অর্থ পায়নি। তাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অভিভাবকরা বলছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা শুধু আশ্বাস পেয়েছেন, কিন্তু সমাধান আসেনি।
আবু ওবাইদুল্লহ সিদ্দিক নামে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, আমি তারাগুনিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ২০২২ সালে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম। এখন আমি তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ছি। তিন বছর পরও আমার প্রাপ্য (প্রতিমাসে ৩০০ টাকা হারে) বৃত্তির টাকা পাইনি।
বুলবুল আহমেদ নামে স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, টাকা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু জীবনের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা।
তহমিনা খাতুন নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু আজও সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেনি। এর ফলে সে মনোবল হারিয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে যতদূর জানি, যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখছে। শুধু দৌলতপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার কামাল হোসেন বলেন, বৃত্তিপ্রাপ্তদের যে টাকা দেওয়া হয়, তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হাতে কিছু নেই। শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানই বিষয়টি দেখভাল করবে।
দৌলতপুর পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, বৃত্তির কাগজ পত্রসহ ব্যাংক হিসাব নম্বর চাহিদা মোতাবেক যথাসময়ে প্রেরণ করেছি। এখন পর্যন্ত তাদের বৃত্তির টাকা আসেনি। কেন বা কি কারণে আসেনি তা আমাদের জানা নেই।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুস আলী স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে অধিদপ্তরে খোঁজ নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
